ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মৌলা কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলসহ নিচে পড়ে জয়নাল আবেদীন (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও তার ভাই আয়নাল আবেদীন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই একই স্থানে ঘটে গেছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এর আগে আরও এক’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফলে এলাকার মানুষ এখন প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন। নিহতের শ্যালক শাহজাহান মিয়া বলেন, জয়নাল ভাই ছাতকে বোনের বাড়ি যাচ্ছিলেন। সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছাতেই হঠাৎ কাঠ ভেঙে তারা নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক বছর আগে মৌলা এলাকার পুরনো পাকা সেতুটি ভেঙে পড়লে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন সরকারি জরুরি বরাদ্দ হিসেবে দেড় লাখ টাকায় একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই সেতুটি প্রথম থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিলো। প্রতিদিন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার অন্তত দুই ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। বন্দেরগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিন বলেন, এই সেতু এক বছর ধরে মৃত্যুফাঁদ হয়ে আছে। পূর্বেও একজন মানুষ মারা গেলো কত মানুষ আহত হলো, কেউ ব্যবস্থা নেয় না। সিঙ্গেরকাছ গ্রমের বাসিন্দা আশ্রব আলী ও স্থানীয় সিএনজি চালক বোরহান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়। শুক্রবার আবার একজন মারা গেলেন - এর দায় কে নেবে? মৌলা গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামমাত্র টাকা খরচ করে সেতু বানানো হয়েছে। কথা ছিল সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচলের মতো করে শক্ত কাঠের অস্থায়ী সেতু করা হবে, কিন্তু তা করা হয়নি। স্থানীয় চালক ও লোকজন স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বারবার বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঠিকাদার বিপন নামমাত্র কাজ করে টাকা খেয়ে ফেলেছে - এই মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। অস্থায়ী সেতু নির্মাণকারী তোফায়েল আহমদ বিপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মাত্র এক লাখ ২৬ হাজার টাকায় সেতুটি তৈরি করার বরাদ্দ পাই।সীমিত বাজেটের মধ্যেই যথাসাধ্য কাজ করেছি এবং ৬ মাস যাবৎ সেতুটির তদারকিও করতেছি। নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান পীর আব্দুল খালিক বলেন, মৌলা সেতু এলাকায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় তোলা হবে, যাতে দ্রুত স্থায়ী সেতুর ব্যবস্থা করা যায়। ছাতক উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, জোড়াপানি-নরসিংপুর সড়কে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রক্কলন তৈরি করে এলজিইডি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি মৌলা সেতুটি শুধু দুই ইউনিয়ন নয়, পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যত দ্রুত সম্ভব টেকসই কংক্রিট সেতু নির্মাণ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
মৌলা সেতু এখন মৃত্যুফাঁদ!
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মৌলা কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলসহ নিচে পড়ে জয়নাল আবেদীন (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও তার ভাই আয়নাল আবেদীন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই একই স্থানে ঘটে গেছে
Printed Edition