নিকলি (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : প্রায় ২০ ঘন্টা পর ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে উঠলো নিখোঁজ দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর লাশ।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবির প্রায় ২০ ঘন্টা পর নিখোঁজ দুই শিশু মাদরাসা শিক্ষার্থী তরিকুল আবির (৭) ও জুবায়েদ (৬) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বাঁশিয়া এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

জানা গেছে মাদরাসা শিক্ষার্থী আবির পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা হাবিব মিয়ার ছেলে ও মাদরাসা শিক্ষার্থী জুবায়েদ একই গ্রামের মোমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তারা দুজনই ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় পাগলা থানা এলাকার বিরুই নদীর পাড় দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলো।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার ভোরে স্বজনেরা নৌকা নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীতে নিখোঁজ আবির ও জুবায়েদকে খোঁজতে বের হয়।

বহু খোঁজাখুজির একপর্যায়ে টাংগাব ইউনিয়নের বাঁশিয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থী শিশুর লাশ ভাসতে দেখেন। নৌকাডুবি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে তাদের লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবির ও জুবায়েদসহ ৯ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী ছোট নৌকায় করে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে মাদরাসায় পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ব্রহ্মপুত্রের স্রোতের তোড়ে ছোট নৌকাটি দত্তের বাজার এলাকার কাছাকাছি যেতেই ডুবে যায়।

নৌকাডুবির পর শাপলা আক্তার (১৪)সহ সাত শিক্ষার্থী সাঁতরে তীরে ওঠতে সক্ষম হয় এবং দুই শিশু শিক্ষার্থী আবির ও জুবায়েদ পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকে।

এ সময় আবির আর্তচিৎকার করে শাপলাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘ফুফু, আমাকে বাঁচাও’আমি ডুবে যাচ্ছি ‘ এ পরিস্থিতিতে শাপলা আত্মার আপন ভাইয়ের ছেলে শিক্ষার্থী আবিরকে উদ্ধারের জন্য ব্রমপুত্র নদীতে নেমে সে নদের পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ও কিশোরগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উদ্ধার তৎপরতার এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের খানিকটা দূর থেকে শাপলা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার তৎপরতা চালালেও দুই শিশু মাদরাসা শিক্ষার্থী আবির ও জুবায়েদ এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দিন ঘটনাস্থল থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বিল্লাল হোসেন জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধানে স্থানীয় জেলে ও ডুবুরিদলের সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে পর দিন গতকাল বুধবার সকালে ওই দুই শিশু মাদরাসা শিক্ষার্থীর লাশ ব্রহ্মপুত্রে ভেসে ওঠে।