মেহেরপুর সংবাদদাতা : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেহেরপুরের-১ (সদর ও মুজিবনগর)এ বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে এবারকার নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে নতুন সমীকরণ। এখন থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ, মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীগণ। এদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খান হচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী।

মাওলানা তাজউদ্দিন খান নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন, পাশাপাশি নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। অসহায়দের মধ্যে সেলাই মেশিনসহ নানা উপহারও বিতরণ করছেন তিনি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে তৎপরতা বাড়িয়েছে জামায়াত।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা : মেহেরপুর-১ (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুণ এবং মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই মাঠে সক্রিয়। অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান গ্রামে-গঞ্জে গণসংযোগ করে তুলে ধরছেন তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি। সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অভিযোগ তুলছেন বর্তমানে বিএিনপির বিভিন্ন কমিটিতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। তিনি কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সভা সমাবেশ, মিছিল গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে অ্যাড. কামরুল হাসান বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল। এখানে মনোনয়নের প্রতিযোগিতা থাকবেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার হয়ে কাজ করবে।” বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলার সভাপতি প্রভাষক খাদেমুল ইসলামকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন জানান, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর থেকেই জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকা-ে নতুন গতি এসেছে।”

অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদের তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক প্রার্থী ঘোষণা করলেও এখনও নীরব রয়েছে। দলটির দাবি, তারা মাঠে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভোটারদের কথা

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপির তরুণ ভোটার আহসান হাবীব (আসিফ মিয়া) বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারেনি সাধারণ ভোটাররা । কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে পেশি শক্তি এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ভোট সেন্টার দখল এবং ভোটারদের সেন্টারে প্রবেশের বাধা প্রধান করে থাকেন। বিধায় ভোটাররা মনে করেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অধীনে নির্বাচন করার প্রয়োজন। ভোটাররা মনের আনন্দে উৎসবের মতন যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের বাধাবিহীন ভোট দিতে পারবেন।

মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স বলেন বিগত সরকারের ভোট গ্রহণ আমরা দেখেছি তাতে সাধারণ মানুষের ভোটের প্রতিফলন ঘটেনি। এবার জুলাইয়ের বিপ্লবের পর সাধারণ ভোটাররা মনে করেন তাদের নিজের ভোট সতৎ, যোগ্য প্রার্থীকে দিতে পারবেন।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আগামী নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ আসনের নির্বাচনে এলাকার মোট ভোট সংখ্যা ৩১৩২১৭। পুরুষ ভোটার মোট ১৫৫৭৫১ মহিলা ভোটার ১৫৭৪৬৭। আগামী বছরে সরকারের যে টার্গেট সেই টার্গেট অনুযায়ী কাজ করবেন নির্বাচন কমিশন।