চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর চারঘাটে বালু ও ভূমিদস্যুতার ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “ইটভাটার জন্য মাটি কাটা, নির্মাণ কাজের জন্য বালু উত্তোলন, পাহাড় ও কৃষি জমির উপরের স্তর কেটে নেয়া-এসব চরম মাত্রায় চলছে। কৃষক রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, সকালে উঠে দেখে জমির মাটি নেই।”
গতকাল সোমবার সকালে চারঘাট উপজেলার বড়াল নদীর উৎসমুখ ও স্লুইসগেট পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন রোধে জেলা প্রশাসকদের জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। দিন বা রাত যেকোনো সময় এমন কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। এদিকে বড়াল নদী রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপের উপর গুরুত্বারোপ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নদীর বর্তমান বাস্তবতায় চারঘাটে নির্মিত স্লুইসগেটের আর প্রয়োজন নেই। এটি অপসারণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জনগণের কথা শুনতে হবে। প্রকল্প হবে জনগণের টাকায়, তাই মানুষের মতামতই মুখ্য।” তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদে বড়ালের স্লুইসগেট অপসারণ করা হবে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। ফারাক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চুক্তির মেয়াদ এখনো দেড় বছর বাকি রয়েছে। এর আওতায় দুই দেশের টেকনিক্যাল কমিটি নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছে। সঠিক সময় এলে, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।” পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বড়ালের পানিপ্রবাহ রক্ষায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত সময়ে স্লুইসগেট অপসারণের আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।