কাপ্তাই থেকে সংবাদদাতা : পতিত আওয়ামী সরকারের মদতপুষ্টরা এখনো রয়ে গেছে স্ব-স্ব কর্মস্থলে। আওয়ামী সমর্থিত নৌকা প্রতীক নিয়ে কাপ্তাইয়ের ইউপি চেয়ারম্যানরা এখনো কাপ্তাই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভায় তাদের প্রভাব, মতামত ও সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ করে রেখেছেন উপজেলা প্রশাসন।

এমন অবস্থা বহাল থাকলে, আগামীতে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে কঠিন হতে পারে। এক্ষেত্রে ভোট ও গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। জানা গেছে, এখনো কাপ্তাই উপজেলায় বহাল তবিয়তে থাকা আওয়ামী লীগের আস্থা ভাজন সুবিধাভোগী কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী খুবই নীরবে সংগঠিত হচ্ছে, কিছু দিন পরপর তারা গোপনে বৈঠক করে এবং অপেক্ষা করছে- অপশক্তির একটি সুযোগের। জানা যায়, আওয়ামী ভক্ত আমলাদের দিয়ে আরাবো সেই পুরোনো ছক কসছে আওয়ামীমীগ, সময় যত এগুচ্ছে আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্রের জাল, ততটাই বিস্তৃত হচ্ছে।

জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিয়োগকৃত ও সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই ৫ই আগস্টের পর এখনো কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন দপ্তরে বহাল তবিয়তে রয়েছে, তাদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন রয়েছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের কঠোর সমর্থক, এদের কেউ কেউ-ছাত্রলীগ, যুবলীগ-ও আওযামীলীগ-করতেন। অথচ ৫ আগস্টের পর একবছর অতিবাহিত হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখনো সংস্কার কাজের অগ্রগতির দৃশ্যমান্য হয়নি। ফলে ভোটাররা শঙ্কিত রয়েছে।

যেমন, ২০১৪-২০১৮ এবং ২০২৩ সালের দিনের ভোটে রাতে করার কারিগর ঐ সকল জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবসরে পাঠানোর ব্যবস্থা হলেও ২০২৪ সালে কাপ্তাইয়ে জালিয়াতি ভোটের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই কর্মকর্তা কর্মচারী এখনো কাপ্তাইয়ের কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে, আগামী ২০২৬ এর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : হরি, ঘ্যাংরাইল নদীসহ এর সংযোগ খাল পলিতে ভরাটসহ শ্যাওলায় পরিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বর্ষার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে ২৭ বিল সংলগ্ন ৬৮ গ্রামের প্রায় ৫৬ হাজার বিঘা কৃষি জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপণ করছে। এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় যুগ যুগ ধরে কৃষকরা কোনো ফসল আবাদ করতে পারছে না। জলাবদ্ধ এলাকার হাজারও কৃষক পেশা পরিবর্তন করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছে। সমস্যা নিরসনে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার জলাবদ্ধ ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনে শত শত জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে ডায়েরখালের কচুরিপনা (শ্যাওলা) অপসারণ কাজ শুরু করেছে। কাজের উদ্বোধন করেন আজকের কেশবপুরের পাঁজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল ও মনিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন। ২৭ বিল পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মাস্টার মকবুল হোসেন বলেন, জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা এখনও চোখে পড়েনি। আমরা জলাবদ্ধ মানুষের সহযোগিতায় বিল খুকশিয়ার ৮ ভেন্ট গেটের সামনে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন কাজ শুরু করেছি। একই সাথে ডায়েরখালের শ্যাওলা অপসারণের কাজ চলছে।