মিছবাহ উদ্দিন, ঈদগাঁও : জুলাই বিপ্লবের প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে নিহত ও আহতের ঘটনায় যেনতেনভাবে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় কোন আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে জড়িতরা । যার কারণে ছাত্র জনতার উপর হামলাকারী আওয়ামী দোসররা প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করাতে নিহত- আহতের পরিবার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা আতঙ্কে দিন পার করছে বলে ভুক্তভোগিরা দাবি করছেন।

বিগত এক বছরেও দায়েরকৃত পৃথক হত্যা ও লুটপাট মামলায় কোন আসামী থানা পুলিশ রহস্যময় কারণে গ্রেফতার না করাতে জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত ঘটনায় আহতদের পক্ষে সুবিচারের আশায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন গুরুতর আহত এক ভিকটিম। এ অভিযোগটিরও কোন অগ্রগতি না হওয়ায় বিপ্লবে নিহত ও আহতের পরিবারগুলো চরম হতাশায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাপন করেছেন বলে জানান।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতার অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন সংঘটিত ঘটনার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও বিগত এক বছরে ছাত্র জনতার উপর হামলায় জড়িত কাউকে আটক করেনি। তাদের দাবি এসব ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে প্রশাসন নিরবে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মাসোহারা বাণিজ্য করছে। তারা আরো দাবি করেন,দেশ জুড়ে ডেভিল হান্ট অপারেশন চললেও এ থানায় তার আঁচড়ও লাগেনি। যার কারণে এখনো পর্যন্ত এ থানার অধীন পুরো এলাকায় অঘোষিত আওয়ামী রাজত্বের আড়ালে সব রকম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে নিয়মিত।

এ বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা এডভোকেট এস কে ফারুকী ক্ষোভের সাথে জানান, বর্তমান ওসিকে ছাত্র জনতার উপর হামলাকারী ভিডিও ফুটেজে থাকা দোসরদের আটকের জন্য বারবার বললেও তিনি বিগত এক বছর যাবত তা বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে গেছেন। নিয়মিত এসব দোসররা থানার আশপাশে এবং উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকলেও তিনি তাদের খুঁজে পাননা। এক কথায় থানা প্রশাসন আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনে যেন অঘোষিত দায়িত্ব পালন করছেন।

নিহত শহীদ নুরুল মোস্তফার পিতা শফি উল্লাহর নিকট পুত্র হত্যার বিচার চান কিনা জানতে চাইলে তিনি এখনো পর্যন্ত ভয়ে আতন্কে পুত্র হত্যার বিচার চেয়ে মুখ খুলার সাহস করেননা।

গুরুতর আহত দিন মজুর বেলাল অশ্রু সজল কণ্ঠে দাবি করেন, যাদের গুলীতে তার এক হাত পঙ্গু , তিনি তাদের বিচার চান তাড়াতাড়ি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ মোঃ মছিউর রহমান জানান, হত্যা মামলায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি,তবে অন্য মামলায় একাধিক জন আটক হয়েছেন দাবি করেন।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের আগস্ট মাসের ৩,৪ ও ৫ তারিখ ঈদগাঁওয়ে ছাত্র জনতার সাথে টানা তিন দিন সংঘর্ষ হয় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। যে হামলায় গুলিতে নিহত হয় আন্দোলনকারী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরুল মোস্তফা ও আহত হয় অনেকে। আহতদের মধ্যে গুলিতে হাত ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া দিন মজুর বেলাল উদ্দিনের একটি হাত পঙ্গুত্বের পথে। বিপ্লব পরবর্তী তখনকার থানা পুলিশ নিজেদের ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রক্ষায় নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে যেনতেন ভাবে নাম অজানা মাত্র একজনকে আসামী করে হত্যা মামলা এবং নাম অজানা ৩/৪ হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তখনকার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমাসহ অধিকাংশ পুলিশ সদস্য পরে বদলি হয়।