ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে যুবলীগ নেতা ও তিনটি নাশকতা মামলার আসামি ১০ মাস পলাতক পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাওন তালুকদারের স্বাক্ষর এনে এক বছর আগের ডিও ছাড় করে খাদ্য গুদাম থেকে চাল তুলে দিলেন উপজেলা খাদ্য অফিসের নিরাপত্তা কর্মী নাজমুল। ১৭ জুন উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্য অফিসের নিরাপত্তা কর্মী নাজমুল কাউকে না জানিয়ে অফিসের রেজিস্ট্রার নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ১০ মাস পলাতক উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাওন তালুকদারের ডিওতে স্বাক্ষর নেন। পরে ওই দিনই খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এক টন আটশ কেজি চাল তুলে বিক্রি করে দেন। জানা যায়, গত বছরের ২০ জুন উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের একটি রাস্তার কাবিখা প্রকল্পে এক মে. টন ৮০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তর।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশিদ বলেন, আমি এ বিষয় কিছুই জানি না। গত বছরের কোনো ডিও ছাড় করিনি। এ বিষয়ে আপনার কাছে শুনলাম যিনি খাদ্য কর্মকর্তা ছিলেন তিনি করেছেন কি না। কেউ জানায়নি। অফিসের কেউ জড়িত থাকলে বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারব।
উপজেলা খাদ্য গুদানের কর্মকর্তা (ওসি এল এসডি) আব্দুস সালাম জানান, গত বছরের ২০ জুনের ডিও করা একটি রাস্তার কাবিখা প্রকল্পের এক টন ৮০০ কেজি চাল এক বছর ধরে খাদ্য গুদামে জমা ছিল। ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন ১নং পাড়েরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাওন তালুকদার। এক বছর ধরে চাল তুলে না নেওয়ায় আমি উপজেলা খাদ্য অফিসে জানালে খাদ্য অফিসের নিরাপত্তা কর্মী আমার কাছ থেকে বিতরণ রেজিস্ট্রারসহ অন্য কাগজ নিয়ে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর এনে চাল এক ক্রেতাকে দিতে বলেন। পরে পলাতক চেয়ারম্যান আমার কাছে না এসে তিনিও ফোন করলে আমি চাল ক্রেতাকে দিয়ে দিই। উপজেলা খাদ্য অফিসের নিরাপত্তা কর্মী নাজমুল জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানের নামে একটি কাবিখা প্রকল্পে এক মে. টন ৮০০ কেজি চালের ডিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি উত্তোলন না করায় আমি তার স্বাক্ষর এনে ডিও খাদ্য গুদামে দিলে সেখান থেকে তার লোক দিয়ে চাল নিয়ে যান।