দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার অবৈধ চিংড়ি রেণু জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত রেণুগুলো পরে মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। গত রবিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন গজারিয়ার সদস্যরা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সন্দেহজনক দুটি ট্রাক আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এতে পাওয়া যায় ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গজারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উদ্ধার রেণুগুলো মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ট্রাকচালক ও হেলপারদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “এ ধরনের অবৈধ রেণু পরিবহন ও বিক্রি দেশের জলজ সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রাকৃতিকভাবে চিংড়ির সংখ্যা রক্ষায় এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।”
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও খাল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেণু অবৈধভাবে আহরণ করা হয়। এসব রেণু বিশেষ কন্টেইনারে ভরে ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়।
বাজারে একটি রেণুর দাম গড়ে ৪০-৫০ টাকা হলেও পাইকারি বিক্রিতে লাখ লাখ পিস হাতবদল হয়, যা পাচারকারীদের জন্য কোটি টাকার মুনাফা এনে দেয়।
কিন্তু এই ব্যবসার ভয়াবহ দিক হলো—রেণু আহরণের সময় জাল বা অন্যান্য পদ্ধতিতে অসংখ্য অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে নদী ও উপকূলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মৎস্য আইন অনুযায়ী, চিংড়ি রেণু আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে। তবুও অধিক মুনাফার আশায় পাচারকারীরা ঝুঁকি নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের জলজ সম্পদ ধ্বংসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।