হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাটে সী ট্রাক যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রিতে বাধা দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের আগে সীট্রাক ঘাট ছেড়ে যেতে বাধ্য করা, অনেক সময় যাত্রী উঠতে বাধা দেওয়া সহ যাত্রীবাহী সীট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। এসব ঘটনায় সরাসরি ট্রলার মালিক সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি চেয়ারম্যানঘাট নলচিরা রুটে চলাচলকারী এস,টি শৈবাল সীট্রাকের মাস্টার ও স্টাপের উপর হামলার ঘটনায় একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় প্রচার হলে আলোচনায় আসে বিষয়টি। ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন লোক সীট্রাকের মাস্টার ও স্টাফদের দিকে তেড়ে আসছেন। তারা দ্রুত সীট্রাক ছেড়ে যেতে গালমন্ধ করছেন। ৫ আগস্টের পর হাতিয়ায় ঘাট ও যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইজারাদার গা ঢাকা দেওয়ায় যে যার মত করে ফিটনেসবিহীন ট্রলারে যাত্রী পারাপার করতে থাকেন ঝুঁকি নিয়ে। এতে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তারা ফিটনেসবিহীন ট্রলার স্পীডবোট সহ বিভিন্ন যানবাহন পরিচালনা করে আসছেন।

এদিকে বর্ষা মৌসুমের কথা চিন্তা করে সরকারি সীট্রাকটি চলাচলের ব্যবস্থা করেন প্রশাসন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সীট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়া শুরু করে এ সিন্ডিকেট। সম্প্রতি চেয়ারম্যানঘাটে সীট্রাকের যাত্রীদের টিকেট কাউন্টারটিও বন্ধ করে দেয় তারা। এ ধরনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় জামশেদ নামের এক ব্যক্তি টিকেট কাউন্টারে গিয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বের করে দেয়। টেবিলের উপর রাখা টিকেটের বান্ডেল ছিঁড়ে ফেলেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে নৌবাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যানঘাট গিয়ে একজনকে আটক করেন। এর কিছুদিন পর সংঘবদ্ধ দল চেয়ারম্যানঘাটে সীট্রাকে যাত্রী উঠতে বাধা দিতে দেখা যায়। তারা সীট্রাকের মূল প্রবেশদ্ধার সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের অন্য যানবাহনে উঠতে বাধ্য করেন। এতে যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনেক যাত্রীর সাথে তাদের দস্তাদস্তি হয়।

এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন বলেন, শীত মৌসুমে সীট্রাক ছাড়াও অন্যান্য বাহনে নদী পার হওয়া যায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের সাত লাখ মানুষের নদী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা হল এ সীট্রাক। কারণ তখন নদী উত্তাল থাকে। অন্য যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি থাকে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে সীট্রাক চলাচল ঠিক রাখতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি।

ভোলায় ঘরে ঘরে গ্যাসসংযোগের দাবিতে বিক্ষোভ

ভোলা সংবাদদাতা : ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, ভোলা বরিশাল সেতু ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ ৬ দফা দাবীতে সম্প্রতি ভোলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ইন্ট্রাক অফিস অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে ভোলার ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় আন্দোলকারীরা ইন্ট্রোকো অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এর আগে ‘আমরা ভোলাবাসীর’ ব্যানারে আজ সকাল ১১ টায় জেলা শহরের বাংলা স্কুল মাঠ চত্বরের ভাষাণী মঞ্চে অধিকার আদায়ের সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধরা। এতে বক্তব্য রাখেন,ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মুবসসিরুল হক নাঈম, বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন,আমরা ভোলাবাসী সংগঠনের সদস্য সচীব মীর মোশারেফ অমি, ইসলামী আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলামসহ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিক্ষুদ্ধরা বেলা ১ টায় একটি মিছিল নিয়ে বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গ্যাস সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো কোম্পানীর আঞ্চলিক অফিস অভিমুখে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।এ সময় বক্তারা দাবী আদায় না হলে গ্যাসবাহী গাড়ি ভোলার বাইরে যেতে দেয়া হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। এধরণের ধৃষ্টতা কেউ দেখালে গ্যাসের গাড়ি আটকে দেয়ার হুশিয়ারী দেন। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষনা দেয়া হয়।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা শহরে পুলিশ, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ৩ দশক আগে ভোলায় গ্যাস আবিস্কৃত হলেও গ্যাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ভোলার মানুষ। বাসা-বাড়ীতে গ্যাস সংযোগ ও ব্যবহারের দাবীতে গত দুইবছর ধরে জেলাবাসী আন্দোলণ করে আসছেন। যৌক্তিব দাবী মানা না হলে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা ভোলাবাসীর। ভোলা,বরিশাল,ঢাকা ও চট্রগ্রামস্থ্য ভোলাবাসী তাদের দাবী আদায়ের জন্য একযোগে এ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আন্দোলনের এসব কর্মসূচীতে দলমত নির্বিশেষ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিচ্ছেন।