নাজমুল হুদা, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ ) : রাজধানী ঢাকার উপ কন্ঠে প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের অতি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল উপজেলা রূপগঞ্জ। কয়েক হাজার শিল্প কারখানা,পূর্বাচল উপশহর সহ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের কারণে এখানে গড়ে উঠেছে অনন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো। যার ফলশ্রুতিতে রূপগঞ্জ হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানকার বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার ও সকল সুযোগ-সুবিধার কেন্দ্রবিন্দু নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের সাথে সম্পর্কিত । প্রতিনিয়তই এখানকার বাসিন্দাদের নানা কাজে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু জেলার সঙ্গে যোগাযোগে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা নাই। এতে প্রতিনিয়ত জেলা সদরে যাতায়াতে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে রূপগঞ্জের বাসিন্দাদের। যে কারণে জেলামুখী কর্মজীবী ও যাত্রী সাধারণকে ভেঙে ভেঙে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিজার্ভ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন দুর্দশায় চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে জেলা সদরে কর্মরত চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের।
উপজেলাটির পশ্চিমে রাজধানী ঢাকা, উত্তরে পূর্বাচল উপশহর, দক্ষিণে অবস্থিত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর। এ জনপদের মানুষের সকল প্রকার নাগরিক কেন্দ্রস্থল ও বহু মানুষের কর্মস্থল জেলা শহরে। তাই প্রতিদিন তাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সরাসরি কোন গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি মাথায় নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। নগরায়ণের এ যুগে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাস পরিবহনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জুবায়ের আহমেদ বলেন, প্রতিদিনই আমাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিভিন্ন গাড়ি বদলিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আসা-যাওয়া করতে হয়। যদি রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি একটি বাস সার্ভিস নারায়ণগঞ্জে চলাচল করতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হত। ভেঙে ভেঙে গেলে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি খরচও হয় অতিরিক্ত।
ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, রূপগঞ্জে মানুষকে জেলা শহরে যেতে হলে একাধিক গাড়ি বদল করে যেতে হয়। যে কারণে জেলামুখী কর্মজীবী যাত্রী সাধারণকে ভেঙে ভেঙে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যানবাহন রিজার্ভ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়। এতে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগছে। সরাসরি গণপরিবহণ চালু না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক।
উপজেলার তারাব পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, জমি জমা নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে তার একটি মামলা চলমান রয়েছে। এ কারণে মাসে একাধিকবার তাকে জেলা সদরে যেতে হয়। তিনি বলেন, গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ নারায়ণগঞ্জের অফিস আদালতের কাজ করতে পারবে।
অ্যাডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই তাকে হয়তো সিএনজি রিজার্ভ করে না হলে বিভিন্ন গাড়ি বদলিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির দিনে ঝামেলা পোহাতে হয় অনেক বেশি। রূপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের সরাসরি পরিবহন সেবা চালু হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
পরিবহন ব্যবসায়ী ও শুভসংঘ বাস সার্ভিসের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, রূপগঞ্জের মানুষের সরকারি সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানাবিধ কাজে, প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রূপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে সরাসরি কোন গণপরিবহন চালু না থাকায়। এ জনপদের বাসিন্দাদের ভোগান্তি সয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শুভসংঘ বাস সার্ভিস থেকে ভৈরব রোডে আমাদের বেশ কিছু গাড়ি যাচল করছে। শুভসংঘ বাস সার্ভিসের পক্ষ থেকে ভুলতা গাউছিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করার বিষয়ে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চালু করতে হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।