শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের বাণিজ্য বৈঠক ১১ মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে এই বৈঠক হচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থল পথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাণিজ্য হয়ে থাকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে। বাণিজ্যে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ২০১৬ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে মাসিক বৈঠকের রেওয়াজ চালু হয়। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় কাস্টমস, বন্দর এবং আমদানি-রফতানি সংগঠন সিঅ্যান্ডএফ এবং ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিরা প্রতিমাসে বৈঠক করতেন। এতে অনেক সমস্যার সমাধান হতো। গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আর বৈঠক হয়নি। কোন বৈঠক না হওয়ায় বাণিজ্য-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের সুযোগ কমে এসেছে। ফলে সম্প্রতি বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে বাণিজ্য অনেকাংশ কমে গেছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনেরসভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জটিলতা নিরসনে বৈঠক দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকায় সংকট দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। এতে করে দু'দেশের সম্পর্কের মান বৃদ্ধি পাবে। বাড়বে বানিজ্যের গতি। সমাধান হবে বানিজ্যিক সংক্রান্ত সকল সমস্যা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ভারত ল্যান্ড পোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার পণ্য ভারতে রফতানি হয়। বিশাল বাণিজ্য সচল রাখতে মাসিক বৈঠক চালু রাখা অতি জরুরি। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তালুকদার বলেন, সরকারের নির্দেশ পেলে আগের মতো বৈঠক আয়োজনের জন্য ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।