মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : মণিরামপুরের কোচবিলের জলবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট জটিলতার এক প্রকার নিরসন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১৯ আগস্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কৃষক ও ঘের মালিকদের সমন্বয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে এইে সমস্যার নিরসন হয়। এসময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এখন থেকে ওই বিলে নতুন করে আর কোন ঘের নির্মাণ করা যাবে না, পুরনো ঘেরের মুখ খুলে বিলের পানি সরানোর ব্যবস্থা করা ও ঘেরপাড়ের গাছপালা অপসারণ করা হবে।
মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের কোচবিলে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ১৬টি ঘের করায় কয়েক হাজার বিঘা জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগণ আন্দোলন করে আসছেন কোচবিলের অপরিকল্পিত ঘের উচ্ছেদ করার জন্য। কোচবিলে আর ঘের হবে না এবং বিদ্যমান অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করতে এলাকায় মাইকিং করে হাজার হাজার কৃষক জোটবদ্ধ হয়ে গত ১২ আগস্ট বিলের ঘেরের পাড় কাটা শুরু করেন। এ নিয়ে কৃষক ও ঘের মালিকদের মাঝে চরম উত্তেজনার দেখা দেয়। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্নার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, জামায়াতের আমির ফজলুল হক, কৃষি অফিসার মাহমুদা আকতার, মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা, মণিরামপুর প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ মজনুর রহমান, ঘের মালিকদের পক্ষে এনামুল হকসহ চারজন ও কৃষকদের পক্ষে মনিরুজ্জামানসহ চারজন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, দীর্ঘ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ঘের মালিক ও কৃষকদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।