কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রতিবেশীর উপকার করতে যেয়ে চরম বিপত্তি ও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন হাফিজা খাতুন নামে এক গৃহবধূ। সুকৌশলে প্রতিবেশী ওই চক্রের জমি আত্মসাতের চেষ্টা, শ্লীলতাহানীসহ নানাবিধ হুমকি, অপপ্রচার ও বিভিন্ন প্রকার হয়রানির কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই গৃহবধূ।
গত ১৬ জুন কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের হাসানকাটি গ্রামের শামসুর রহমান গাজীর স্ত্রী মোছা. হাফিজা খাতুন (৫২) জানান, ১৯৯১ সালে হাসানকাটি গ্রামের কিশোরী লাল বিশ্বাসের ছেলে সূর্যকান্ত বিশ্বাসের নিকট থেকে হাসানকাটি মৌজায় (জেএল ১৬৩) ১৯৯১ সালে ২৬৯২ নং সাব কোবালা দলিলমূলে সাড়ে ২৯ শতক জমি ক্রয় করি।
জমি ক্রয়ের পর থেকে উক্ত জমি হাল জরিপে ৪৬নং খতিয়ানে ৩০ দাগে ২৬ শতক জমি রেকর্ড করিয়ে উক্ত বসতবাড়ি তৈরী করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি। এর প্রায় ১০ বছর পর একই দাগে উক্ত সুর্যকান্ত বিশ্বাসের ভাই মনিকান্ত বিশ্বাসের নিকট থেকে একই গ্রামের মৃত বিজয় বিশ্বাসের ছেলে দুলাল বিশ্বাস (৮০) কিছু জমি ক্রয় করে বসবাস করছেন। দুলাল বিশ্বাসের ক্রয়কৃত উক্ত বসতভিটার একমাত্র যাতায়াতের পথটি বিভিন্ন পারিবারিক ঝামেলার কারণে জমির মালিকগণ বন্ধ করে দেয়।
এ সময় দুলাল বিশ্বাস তৎকালীন স্থানীয় ইউপি সদস্য এস এম আবু তাহের এর শরণাপন্ন হলে বিকল্প পথ হিসেবে ইউপি সদস্য আমার স্বামী শামছুর রহমান গাজীকে দুলাল বিশ্বাসের যাতায়াতের পথ দেয়ার অনুরোধ জানান এবং পথের জন্য যতটুকু জমি লাগে ততটুকু জমি অন্যপাশ থেকে দেয়ার প্রস্তাব দেন। আমার স্বামী মানবিক দিক বিবেচনা করে ইউপি সদস্যের প্রস্তাবে রাজি হন এবং ইউপি সদস্যের মাধ্যমে হাঁটা চলার জন্য পথের জায়গা দেন।
কিন্তু উক্ত পথের জায়গার বিনিময়ে অন্যপাশ থেকে আমকে জমি পূরণ করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে নানাভাবে তালবাহানা করতে থাকে। পথের বিষয়ে কথা বললে দুলাল বিশ্বাস (৮০), তার ছেলে রমেশ বিশ্বাস (৪০), দেবাশীষ বিশ্বাস (৩৭), জয়দেব বিশ্বাস (৩২) ও তাদের সহযোগী রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে নিতাই বিশ্বাস (৩৫) সহ আরও কয়েকজন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে আমার ও আমার পরিবারের উপর বিভিন্ন হুমকি, ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করে আসছে।