সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে । দেশি বিদেশি পোশাকের ভিড়ে চাহিদা হারিয়েছে এ উপজেলার উৎপাদিত তাঁত পণ্য। সিরাজদিখান উপজেলার তাঁত কল গুলোতে তৈরী শাড়ী, লুঙ্গী, ধুতি, চাদর, গামছা প্রভৃতির কদর ছিল সমগ্র দেশে।
তবে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের সঙ্গে এখনো জড়িয়ে আছে উপজেলার প্রায় ৬০ টির মতো পরিবার । এক সময় উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের পাউশার,ফইনপুর গোপালপুর,তীর্থঘাট এবং চিত্রকোর্ট ও রাজানগর ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথই ছিল এ তাঁত শিল্প। এই অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙতো তাঁতের খটর-খটর শব্দে। সারাদিন বাহারী রঙ্গের গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন গ্রামের গৃহবধূরাও। দিন শেষে তাঁতের তৈরি গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি বিক্রয় করতে পশরা সাজিয়ে বিভিন্ন গ্রামের হাটে-হাটে যেতো গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ। এ অঞ্চলের তৈরি কাপর কিনতে বাইরের ব্যবসায়ীরাও যেতো। বর্তমানে যে টুকু আছে, তাও প্রায় বন্ধের পথে।
সরজমিনে গেলে একাধিক তাঁত শিল্পীরা জানান,কল-কারখানায় স্বল্প খরচে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা তৈরি, দেশের বিভিন্ন স্থানে কম দামে ভারতীয়-জাপানি কাপড় পাওয়া যায়। তাঁতের কাপড় তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল, রং সুতা ও রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সিরাজদীখানের তাঁত শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। বলতে গেলে প্রায় বিলুপ্তই হতে বসেছে এক সময়ের প্রসিদ্ধ এ শিল্পটি।
তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত শেখরনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী তোতা মিয়া জানান,‘প্রায় ৩০ বছর যাবৎ এ পেশায় জড়িত আছি ,বাব-দাদার পেশা বলে এখনো এই পেশা ধরে রেখছি । কিন্ত বর্তমানে এই ডিজিটাল যোগে ছেলে মেয়েরা এ পেশাকে পছন্দ করে না । এছাড়া রং সুতা ও রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি,তৈরী কাপড়ের মূল্য কম হওয়ায় আমরা আগের মতো ব্যবসা করতে পারছি না ।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিনা আক্তার বলেন, ‘তাঁতীদের বিষয়টি আমি অবগত আছি । তাঁত শিল্প আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। টিকিয়ে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’