চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আবদুল হালিম। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, উপজেলা জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, কাজী মো. ইয়াছিন, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন ওপেলসহ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী। মিছিলটি চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠ থেকে শুরু হয়ে বাজার ঘুরে হায়দার মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের জোর দাবি জানিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আবদুল হালিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের খুনিদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। যারা গুম করেছিল, তাদের বিচার দৃশ্যমান হয়নি। তবে যারা ধরাছোয়ার বাইরে ছিলেন, তাদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামে শহীদ সাহাব উদ্দিনসহ অসংখ্য মানুষের খুনি পুলিশের আইজিপি এখন দেশের বাইরে পলাতক। ছাত্র-জনতার দাবি হচ্ছে, খুন-গুমের বিচার শেষে নির্বাচন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে মৌলিক বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। জনতার দাবির প্রেক্ষিতে জামায়াত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোট নিয়ে গড়িমসি করছে। আমরা সমমনা ৮টি দল ৫ দফা দাবি আদায়ে ঐকমত্য আন্দোলন করছি। মনে রাখতে হবে, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়ে যাবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবি আদায় কিভাবে করতে হয়, তা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভালো করেই জানে। পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। জনগণ বাংলার মাটিতে তাদের আর কোনো সুযোগ দিতে চাই না।