দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দাউদকান্দি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘বালুরমাঠ’ নামে পরিচিত। একসময় এই মাঠ ছিল শিশু-কিশোরদের খেলার স্বর্গভূমি। গ্রীষ্মের তপ্ত বিকেল কিংবা শীতের হিমেল সকল মাঠজুড়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবলসহ অসংখ্য খেলার আসর বসত। গ্যালারিতে বসে অভিভাবকরা করতালিতে উজ্জীবিত করতেন ছোট্ট খেলোয়াড়দের কিন্তু আজ সেই মাঠ হাঁটু-সমান পানিতে ডুবে থাকে বছরের অধিকাংশ সময়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এটি এখন কেবল একটি পরিত্যক্ত, জলাবদ্ধ জায়গা।

দাউদকান্দির কিশোররা এখন মাঠের অভাবে ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছে। অনেকেই মোবাইল গেমস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের কাছে এটি এক নতুন দুশ্চিন্তার কারণ।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খেলাধুলার জন্য অনুপযোগী হয়ে গেছে। আমরা মাঠে খেলতে পারছি না এজন্য দ্রুত সংস্কার চাই।।

এই মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলার স্থানই নয়, এটি ছিল আশপাশের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পথচারারও নিরাপদ পথ। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ জলমগ্ন হয়ে যায়, কাদা-পানির কারণে যাতায়াতও হয়ে দাঁড়িয়েছে কষ্টকর।

অভিভাবক মাইনুদ্দিন সাহেব আক্ষেপ করে বলেন,“পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশের জন্য জরুরি। মাঠ না থাকায় তারা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

দাউদকান্দির সাবেক ক্রিকেটার আবু সাঈদ জান স্মৃতিচারণ করে বলেন,“এই মাঠে অসংখ্যবার খেলেছি। শীতকালে এখনো ব্যাডমিন্টন খেলি। মাঠটা আমাদের আবেগের অংশ। দ্রুত সংস্কার না হলে দাউদকান্দির একটি ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।”

দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, এই মাঠটি হচ্ছে আমাদের স্কুলের নিজস্ব সম্পত্তি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেখলাম,এটার তেমন কোনো উন্নতি হয় নাই তবে পৌর প্রশাসক এর সাথে আমার কথা হয়েছে,শীঘ্রই এই মাঠ সংস্কার করার জন্য ওনি কিছু অর্থ বরাদ্দ দিবেন।