চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রতিটি সড়কপথ যেন এখন এক একটি চলমান বিজ্ঞাপন কেন্দ্র। সড়কের দুই পাশে থাকা গাছের গোড়া থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত ঝুলে আছে নানা রঙের বিলবোর্ড। জীবন্ত গাছে নির্বিচারে পেরেক মেরে সাঁটানো হচ্ছে রাজনৈতিক দলের, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওইসব সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড।
পরিবেশ ও প্রকৃতির কথা চিন্তা না করে উর্ধ্বতন নেতাদের আশির্বাদ পাওয়ার আশায় এবং জনসম্মুখে নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতা বনে যাওয়ার অপচেষ্টায় গাছে গাছে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড সাঁটাতে মগ্ন হয়ে পড়েছে নেতা-কর্মীরা। চটপটির দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিকিৎসকের সাইনবোর্ডও ঝুলছে জীবন্ত ওই গাছগুলোর গায়ে। আর ওইসব সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড গাছে সাঁটানো হচ্ছে বড় তারকাটা ও পেরেক মেরে। গাছগুলোর দিকে ভালভাবে তাকালে মনে হবে যেন প্রকৃতি নির্বাক হয়ে সহ্য করছে মানবসৃষ্ট ওই পেরেক সন্ত্রাস।
বেদনাদায়ক হলেও সত্য। খোদ চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সামনে পেরেক মেরে গাছে সাঁটানো হচ্ছে এসব প্রচারসামগ্রী। অথচ প্রতিদিন প্রশাসনের লোকজন যাওয়া-আসা করছে এ গাছের সামনে দিয়ে। বিশেষ করে থানা, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন মোড়ের গাছে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড সাঁটানো আছে। এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও উপজেলা সদরের সড়ক বিভাজনে থাকা সৌন্দর্য বর্ধক গাছগুলোও ছাড় নেই। যা দেখে মনে হয়, গাছ নয়-বিজ্ঞাপন সাঁটানোর ‘ফ্রি হোর্ডিং বোর্ড’!
জীবন্ত গাছে পেরেক ঠোকা পরিবেশ ও বন আইনে স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। প্রশাসন নীরব থাকায় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাছকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন সাঁটানোর মাধ্যম হিসেবে, ব্যানার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে গাছের গায়ে ঠোকানো হচ্ছে বড় বড় পেরেক, যেগুলো গাছের অভ্যন্তরীণ কোষ ধ্বংস করে দেয়। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়। যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।