বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুর রব বলেছেন, যারা পিআর পদ্ধতি বুঝে না দাবি করে, তাদেরকে পিআর বুঝাতে যা যা করণীয় তা করা হবে। যাদেরকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বুঝাতে ১৭২ দিন হরতাল পালন করতে হয়েছে। তারাই এখন পিআর খায় না মাথায় দেয় জিজ্ঞেস করে। অধ্যক্ষ আব্দুর রব বলেন, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটাতে চায়। এজন্য অবশ্যই নির্বাচন প্রয়োজন, তবে হাসিনা মার্কা যেনতেন কোনো নির্বাচন মানবে না। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায়, যেমন নির্বাচন দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ চায়। দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়, জামায়াতে ইসলামীও পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়।
গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার রূপরেখা দিলে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরোধীতা করে বলেছিল, পাগল আর শিশু ব্যতীত কেউ নিরপেক্ষ নয়। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না দিয়ে একতরফা নির্বাচন করে। পরবর্তীতে দেশের জনগণের তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকার গঠনের ১১ দিনের মাথায় সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করতে বাধ্য হয়। এবং একতরফা সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের জনগণ যখন পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় তখন যারা পুরোনো ব্যবস্থা বহাল চায় তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিন্তু খারাপ। তারাও আওয়ামী লীগের মতোই ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। এদেশের জনগণ আর কোন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে দিবে না। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা চাচ্ছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণহত্যার বিচারের নিশ্চয়তা না দিয়ে শুধু নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। জনমনে আরো বেশি সংশয় তৈরি হয়েছে, যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে সীমানা পুনঃনির্ধারনের শুনানিতে হামলা হয় তখন কমিশন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তাহলে এই কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবে বলে জনগণ মনে করে না। তিনি অনতিবিলম্বে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতি নিশ্চিত করেই নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনার তৈরি আইনে যেনতেন কোনো নির্বাচন জনগণ চায় না, মেনে নিবে না। যেই নির্বাচন জনগণ চায় না, সেই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যাবে না। জনগণের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ভোটের মাধ্যমে বয়কট করতে হবে। যারা ক্ষমতায় আসারআগেই ৫ আগস্ট পরবর্তী সারাদেশে খুন, গুম, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখলদারিত্বের মহোৎসবে মেতে উঠেছে তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণ নিরাপদে-নির্বিঘেœ রাতে ঘুমাতেও পারবে না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মানুষ ঘরের দরজা খুলে র্নিভয়ে, নির্বিঘেœ, নিরাপদে ঘুমাতে পারবে। চুরি-ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। নারীর স্বাধীনতার নামে যারা নারীদের অধিকার লুন্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে তাদের ঘুম হারাম হয়েযাবে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সবার আগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানুষের জানমাল, ইজ্জতের নিরাপত্তা রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মো. শামছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য পল্টন থানা আমীর, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী পরিচালক শাহীন আহমেদ খানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, শাহবাগ পূর্ব থানা আমীর আহসান হাবীব, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমীর এডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, চৌধুরী, মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মোতাছিম বিল্লাহ, মতিঝিল উত্তর থানা আমীর মো. শামছুল বারি, মতিঝিল পূর্ব থানা আমীর মো. নুর উদ্দিন, রমনা থানা আমীর আতিকুর রহমানসহ ঢাকা-৮ আসনের সকল থানা আমীর-সেক্রেটারীবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
ঢাকা-১১ আসনের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে কেন্দ্র কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১১ আসনের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে কেন্দ্র কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা -১১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. আতিকুর রহমান কেন্দ্র কমিটির করনীয় শীর্ষক আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিশ শুরার সদস্য ঢাকা-১১ আসনের আসন পরিচালক মাওলানা মো. মহিববুল্লাহ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে বাড্ডা দক্ষিণ থানা আমির মাসুদুর রহমান রানা। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যান মহানগরীর সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব ডাঃ মোঃ সুলতান মাহমুদ, মহিলা বিভাগীয় দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারী মোসাম্মদ সুফিয়া বেগম, রামপুরা বাড্ডা জোন পরিচালক মোসাম্মদ তাসলিমা বেগম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।