গোলাম মোস্তফা, মধুপুর (টাঙ্গাইল) : পৃথিবীতে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন কাজকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। তেমনি এক বিচিত্র্যময় পেশা হচ্ছে গাছ, বাঁশ, ঝোপঝাড় ও সবুজ বন থেকে পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করা। এই ডিমের চাহিদা রয়েছে অনেক, আবার বিক্রিও হয় হাট-বাজারে। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার গাবতলী ইউনিয়নের পারুলিতলা প্রত্যন্ত গ্রামের আন্নেছ আলী লাল পিপড়ার ডিম সংগ্রহকে পেশা হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি চলে তার সংসার। সারা বছর পাওয়া যায় না এই পিপড়ার ডিম। বর্ষা মৌসুমে সবুজ বনাঞ্চলের শাল-গজারি, গাছের মগডাল, বড় পাতা, গাছের গর্তে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবুজ বন, আম, জাম ও লিচু, বাশ, ঝোপঝাড়সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাঁশের আগায় জাল বেঁধে এক ধরণের ঠোঙা তৈরী করে চলে ডিম সংগ্রহের কাজ। সারাদিন আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারে এই আন্নেছ আলী। সৌখিন মাছ িিশকারিরা এই পিপড়ার ডিম বড়শিতে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহার করেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের দোখলায় দেখা হয় এই আন্নেছ আলীর সাথে। তার সাথে কথা বলে জানা য্য়া, তার এই পিপড়ার ডিম সংগ্রহের নানা গল্প। পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করে পাঁচ সদস্যের সংসার মোটামুটি ভালই চলছে। এক ছেলে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনে সংসারে আছি। স্বামী-স্ত্রীর দুজনের সংসার তাই এখনো এই পুরনো পেশা ধরে রেখেছি। এই ডিম সংগ্রহ করতে আন্নেছ আলী যেতে হয় বহু দুরের নানা এলাকায়। মধুপুর বনে, রাবার গাছে, ঝোপঝাড়ে, বড় গাছে, মাটির টিকরের খোঙে বিভিন্ন স্থান থেকে পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করা যেত। এখন আর আগের মতো ডিম সংগ্রহ করা যায় না। আন্নেছ আলী ছাড়াও এলাকায় আরো কিছু লোক এ পেশায় জড়িত আছেন। মধুপুর বন ছাড়াও ময়মনসিংহ, শেরপুর, মধুটিলা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এই পিপড়ার ডিম পাওয়া যায়। মুক্তাগাছা, কালিবাড়ী, চেচুয়া হচ্ছে ডিম বিক্রির প্রধান হাট। স্থানীয় হাট-বাজারে এই ডিম বিক্রি করা হয় প্রতি কেজি ১৮ শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। আন্নেছ আলীর মতো অনেক দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষ রয়েছেন যারা এই পিপড়ার ডিম সংগ্রহের পেশায় জড়িত।

স্থানীয় মৎস্য শিকারী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দুর দুরান্ত থেকেও পিপড়ার ডিম ক্রয় করতে মাছ শিকারীরা আসে। ডিম সংগ্রকারী আব্দুল হক বলেন, আমরা বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও স্থানীয়দের নিকট থেকে ডিম সংগ্রহ করে থাকি। তবে কোন সময় তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হয়।

স্থানীয়রা জানান, আগে মধুপুর বনাঞ্চলের আশে পাশের গ্রামগুলোতে পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করা যেতো। কিন্ত আগের মতো গাছ-পালা না থাকার কারণে ডিম সংগ্রহ করা কষ্ট সাধ্য হয়েছে। তাই অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে। যার ফলে বর্তমানে পিঁপড়ার ডিমের চাহিদা বেশ থাকলেও তা সংগ্রহ করা দুরহ হচ্ছে।