গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : বাংলার মাটিতে জীবনের মানে আজও জড়িয়ে আছে জীবিকার সঙ্গে। শহরের উঁচু ভবনের পেছনে যেমন ঘাম ঝরায় নির্মাণশ্রমিক, তেমনি গ্রামের খোলা মাঠে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষক লড়ে যায় অন্নের জন্য। জীবন আর জীবিকার এই বন্ধন যেন এক চিরন্তন অধ্যায়-যেখানে শ্রমই ধর্ম, আর বেঁচে থাকাই তপস্যা। ভোরের আলো ফুটতেই মানুষ বেরিয়ে পড়ে জীবিকার খোঁজে। কেউ যায় নদীতে মাছ ধরতে, কেউ মাঠে ফসল তুলতে, কেউ আবার শহরে রিকশা টেনে বা দোকানে কাজ করে দিন গুজরান করে।
কারও জীবিকা কৃষি, কারও কারিগরি, কারও শিক্ষা-দান, আবার কারও পেশা সৃজনশীল কাজ।
তবে উদ্দেশ্য একটাই—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।
বাংলাদেশের জীবনের এই চিত্র শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে।
এখনো আছে আত্মমর্যাদা, ত্যাগ ও আশা।
মানুষ জানে—জীবিকা মানে শুধু আয় নয়,
এটি জীবনের অবিচ্ছেদ্য শক্তি।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ জীবিকায় পরিবর্তন এসেছে। কৃষির পাশাপাশি বেড়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন ব্যবসা। নারীরাও আজ কর্মক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন।
এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে জীবিকা এখন আর কেবল পুরুষের নয়, এটি সবার যৌথ সংগ্রাম।
তবুও কষ্ট আছে খরা, নদীভাঙন, পণ্যের দাম কমে যাওয়া সব কিছু মিলিয়েও মানুষ থেমে থাকে না।
প্রতিদিন নতুন সূর্যের সঙ্গে তারা নতুন করে শুরু করে
সংগ্রামের জীবন।
জীবন আর জীবিকা তাই বাংলার মানুষের
সবচেয়ে প্রিয় উপাখ্যানÑ
যেখানে ঘাম মেশে মাটির গন্ধে,
পরিশ্রমই আনন্দ, আর বেঁচে থাকাই এক প্রাপ্তি।