কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা : কসবা-আখাউড়া সড়কের দীর্ঘসময় ধরে বেহাল ও চলাচলের অনুপযোগী থাকার অভিযোগকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কসবা উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে পৌর সুপার মার্কেট চত্বরে বিক্ষোভ-মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-(কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার মানববন্ধনে বলেন, গত ৫৪ বছরে তদারকি ও নীতি ঘাটতির কারণে এ সড়কের অবস্থা লজ্জার পর্যায়ে পৌঁছেছে-অবিলম্বে মেরামত করতে হবে।
আতাউর রহমান সরকার আরো বলেন, “দূর্নীতির কারণে টেকগই উন্নয়ন হচ্ছে না, ফলে কসবা-আখাউড়া বাসী দৈনন্দিন যাতায়াতে কষ্ট পাচ্ছেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের ফলে সমাজে অশান্তি বৃদ্ধির শিকার। আমরা এসবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে এবং জনগণের সাথে নিয়ে লড়াই শুরু করেছি।” তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নায়েবে আমীর শিবলী নোমানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান, কসবা পৌর জামায়াতের আমীর হারুন অর রশিদ, সহকারী সেক্রেটারি নুর মাজিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি এস এম আজাদ মানিক, উপজেলা শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ আল আরিফ ও প্রচার সম্পাদক কবির আহমেদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সড়ক মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন। বক্তরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল নানান ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতির ফলে সড়ক-প্রকল্পে সত্যিকার মনিটরিং হয়নি; ফলে দুর্ভোগ না কমিয়ে বরং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, পিচ উঠে যাওয়ায় এবং গর্ত-বিলের কারণে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত; বিশেষ করে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে সমস্যা হওয়ার ফলে সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে-এমন অভিযোগও উঠেছে।
মানববন্ধনের শেষে আয়োজকরা একটি স্মারক প্রস্তাবনা মঞ্চে উপস্থাপন করেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত অগ্রগতি চাওয়ার আহ্বান জানান। প্রস্তাবনায় স্থানীয় সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই মেরামতের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ শাঘাতে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।