এম, এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বড়াল নদীর তীরে রাউতারা স্লুইসগেট এখন আকর্ষনীয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাউতারা-তাড়াশের নিমাইচরা রিং বাঁধের বড়াল নদীর উৎস মুখ স্লুুইস গেটের পানি প্রবাহ দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছে হাজারো নারী-পুরুষ। প্রতিদিন সেখানে দূর-দুরান্তের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী অসংখ্য মানুষের ভিড় বাড়ছে। স্লুইস গেট এলাকায় বড়াল নদীর নৈস্বর্গিক দৃশ্য আর বিস্তীর্ণ বাথান ভূমির প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছে বিনোদনপ্রেমীরা। ংিবশেষ করে উঠতি বয়সী তরুনেরা স্লুইসগেটের ঝর্নায় গোসল করতে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে। তবে প্রতিদিনের তুলনায় ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষের ঢল নামে। এ বিনোদন কেন্দ্র ঘিরে অনেকের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। স্লইসগেটের উপরের মাঠে নানান দোকানপাট ছাড়াও নৌকা চালিয়ে অনেকেই সংসার চালাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পোতাজিয়া ইউনিয়নের সোনাই নদীর সম্মুখভাগ রাউতারা স্লুুইস গেটটি বর্ষার পানি গত ৩সপ্তাহ ধরে খুলে দেওয়ায় বড়াল নদী থেকে বিপুল গর্জনে পানি ঢুকছে । এই পানির প্রবাহ ও ঝর্ণার দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত অবধি ভিড় করছে বিভিন্ন পেশার নানা বয়সী হাজারো মানুষ। কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ পানি প্রবাহ দেখছে, কেউ গোসল করছে , আবার কেউ মোবাইলে ছবি-ভিডিও, সেলফি তুলছে। সিরাজগঞ্জ ,পাবনা ও আশে পাশের জেলার অনেক স্থান থেকেই বিনোদন প্রেমীরা ছুটে আসছে রাউতারা স্লুুইস গেটে। আর এ স্লুইসগেট ঘিরেই গড়ে উঠেছে নতুন অবকাশ কেন্দ্র। বাহারি খাবারের দোকান, খেলনাসহ বিভিন্ন দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা।
শাহজাদপুর শহর থেকে আসা কলেজ ছাত্র তাহমিদ হোসেন বলেন, এখানে আগেও আসছি, ইদানীং মানুষের প্রচুর ভিড় বেড়েছে। স্ল্ইসগেটের পানির প্রবাহ ও ঝর্না দেখতে কাছের-দুরের অসংখ্য মানুষ এখানে আসে। জায়গাটা খুবই মনোরম। নৌকাতে ঘোরা যায়। এখানে আরও যদি উন্নত করা যায়, সরকার যদি মানুষের বিনোদনের জন্য আরও ভালো উদ্যোগ নেয় হয়।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া ইসলাম জুঁই বলেন, বিকেলের সময় কাটানোর মতো খুবই ভালো একটা জায়গা রাউতারা স্লুইসগেট । এখানে বাতাস, পানির নির্ঝর প্রবাহ অসাধারণ লাগে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে অসংখ্য মানুষ ঘুরতে আসে। কেউ গোসল করে, আড্ডা দেয়। আমরা বন্ধুরা মিলে মাঝে মধ্যেই এখানে আসি। আসলে অনেক ভালো লাগে।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, অসাধারণ একটা জায়গা। ছুটির দিনে এখানে এসে সময় কাটাই। নদী ও পানির প্রবাহ দেখে মন ভালো হয়ে যায়। বর্তমানে এখানে মানুষের ভিড় বেড়েছে।
এ বিষয়ে পোতাজিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক মকবুল আহমেদ বলেন, রাউতারা স্লুইস গেট আমার ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই জায়গাকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল নামছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাউতারা পর্যটন আকর্ষন করে। সরকারিভাবে এটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে আশে পাশে সৌন্দর্যমন্ডিত করলে সরকারও রাজস্ব পেতে পারে।