চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। পাশাপাশি কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় নগরীর বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে চলাচলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গত ২৬ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ গত ২৭ জুলাই বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১০৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদিও নি¤œচাপটি উপকূল অতিক্রম করে ফেলেছে, তবুও আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে নগরীর সড়কগুলোতে গণপরিবহণের সংখ্যা ছিল অনেক কম। বাস, অটোরিকশা, টেম্পু ও রিকশার সংকটে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাল ও নালা উপচে পানি উঠে যাওয়ায় আগ্রাবাদ, মোহরা, চকবাজারসহ অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়কঘেঁষা দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দেয়া তথ্যে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টায় কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট পয়েন্টে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৫ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৪ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ, পানি বিপৎসীমার মাত্র ০.৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া ফটিকছড়ির পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় একই সময়ে হালদা নদীর পানি ৪ দশমিক ৭৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে, যেখানে বিপদসীমা ৮ দশমিক ৪২ মিটার। হালদার পানি এখনও বিপৎসীমা থেকে বেশ নিচে রয়েছে।

চট্টগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান জানান, “কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের সময় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। হালদা নদীতে এখনও বিপদের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে জোয়ারের সময় কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হলেও ভাটার সময় তা আবার নেমে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতেও পাহাড়ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।