কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো : আর ১৭ বা ১৮ দিন পর মুসলমানদের অন্যতম দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ পালিত হবে। ঈদুল ফিতরে কাপড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা জমজমাট থাকলেও ঈদুল আযহায় কুরবানির পশুর ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠে। বিভাগীয় নগরী সিলেটে ১২ টি এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদরে ৬২ টি সহ মোট ৭৪ টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পবিত্র ঈদুল আযহা এলে সরকারি অনুমোদিত হাটের নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাটের ছড়াছড়ি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ও অলিতেগলিতে অনুমোদনবিহীন পশুর হাট বসে। এতে সরকার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের জেলা, উপজেলা পর্যায়ের পাতিনেতাদের ছত্রছায়ায় প্রশাসনের সহযোগিতায় টিলাগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের কয়েকদিন আগেই গড়ে উঠত অবৈধ পশুর হাট। যেহেতু এখন ক্ষমতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাই এবার অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে হাট বসবেনা বলে জনসাধারণের প্রত্যাশার পাশাপাশি প্রশাসনও আশা করছে এমনটি হবে না।
সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় ৬২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন স্ব স্ব এলাকার পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে পশুর হাট চালু করবেন। মে মাসের শেষ বা জুনের শুরুর দিকে অস্থায়ী হাটের কার্যক্রম চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিটি কর্পোরেশনের আবেদন করা ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট এবং উপজেলা পর্যায়ের অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করা হবে। একই সাথে এই সভায় ইজারা এবং হাট চালুর সময়কাল নির্ধারণ করে দেয়া হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার সিসিকের পক্ষ থেকে নগরীর ১২টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জায়গাগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ সুরমা পারাইরচক ট্রাক টার্মিনাল, দক্ষিণ সুরমাস্থ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ পার্শ্ববর্তী এলাকা, মাছিমপুর কয়েদীর মাঠ, ঝালোপাড়া ভার্থখলা, শাহপরান গেইট এলাকা, টিলাগড় পয়েন্ট, মেজরটিলা বাজার, তেমুখী, আখালীয়া নবাবী জামে মসজিদ মাঠ সংলগ্ন এলাকা, পাঠানটুলা পয়েন্ট এলাকা ও মিরাপাড়া আব্দুল লতিফ স্কুল সংলগ্ন মাঠ। ইতোমধ্যে সিসিকের পক্ষ থেকে এসব স্থানে হাট চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পেলেই সিসিকের পক্ষ থেকে ইজারা কার্যক্রম শেষ করা হবে। আর স্থায়ী কাজিরবাজার পশুর হাটে পশু বেচাকেনা তো থাকবেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর সিলেট নগর এলাকার ৮টি স্থানে টুকেরবাজার (তেমুখী পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা), মাছিমপুর কয়েদির মাঠের খালি জায়গা, মেজরটিলা বাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা, শাহপরান পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা, টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা, শাহী ঈদগাহস্থ খেলার মাঠের পেছনের অংশ, সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠ ও দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন ট্রাক টার্মিনালে স্থাপিত কুরবানির অস্থায়ী পশুর হাট চালু হয়েছিল। এবার সিটি কর্পোরেশন আরো ৪টি হাটের তালিকা বৃদ্ধি করেছে।
গত বছর জেলায় ৪২টি অস্থায়ী পশুর হাট চালু হলেও এবার ৬২ টি হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যত্রতত্র অবৈধ পশুর হাট ঠেকাতেই জেলা ও মহানগর এলাকায় অস্থায়ী হাটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক সূবর্ণা সরকার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ইতোমধ্যে সিলেট জেলার ৬২ টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সিলেট মহানগর এলাকার ১২ টি পশুরহাটের আবেদনের বিষয় এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। এরপর জেলা প্রশাসক অনুমোদন করবেন। তবে সিলেটের উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ তাদের নিজ নিজ উপজেলার হাটের ইজারা ও বেচা-কেনার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবেন।