হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : হাটহাজারীতে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে স্কুলছাত্র তানভীর হত্যার ঘটনায় প্রকৃত আসামীদের আড়াল করা ও ভিকটিমের নির্দোষ চাচাতো ভাই রায়হানকে গ্রেফতার করে একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি করা এবং ওসির রহস্যজনক ভূমিকার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হাটহাজারী উপজেলা জামায়াত।

২৪ অক্টোবর হাটহাজারী উপজেলা আমির ও সেক্রেটারী যৌথ এ বিবৃতিতে বলেন, হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীরকে কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা গত ২১ অক্টোবর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ খুনিদের ধরতে টালবাহানা করেছে, প্রকৃত আসামিদের আড়াল করেছে এবং ভিকটিমের নির্দোষ চাচাতো ভাই মোঃ রায়হানকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তাকে নির্যাতন করা হয় এবং একাধিক মামলায় আসামি করে দ্রুত আদালতে পাঠানো হয়। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার এ রহস্যজনক ভূমিকা হাটহাজারীবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধভাবে লক্ষ্য করেছেন।

ওসির বিতর্কিত এ ভূমিকার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাটহাজারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক শোয়াইব চৌধুরী ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মালেক চৌধুরী।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) হাটহাজারী পৌর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের হাতে স্কুল শিক্ষার্থী তানভীর নৃশংসভাবে নিহত হয়। হাটহাজারী মডেল থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে এ হত্যাকা- সংঘটিত হলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিরব থাকে। কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জনরোষের মুখে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে দুইজনকে ‘সন্দেহজনক আটক’ হিসেবে মিডিয়ায় প্রকাশ করা হলেও অপর একজনের নাম গোপন রাখা হয়। অপরদিকে, নিহত তানভীরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান তানভীরের মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে প্রচার করেন এবং ‘অকাল মৃত্যু’ লিখে শোকব্যানার টানানোর কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার অধ্যক্ষের অফিস ঘেরাও করে। পরে পুলিশ অধ্যক্ষকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও এক পর্যায়ে দেখা যায়, পুলিশ তাঁকে থানায় নেয়নি।