গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : শুক্রবার দিবাগত রাতে সারারাত ধরে দমকা হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া আর টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আমন ধান, পেঁয়াজের বীজ চারা ও শাকসবজির মাঠে পানি জমে কৃষকরা পড়েছেন দুঃচিন্তায়।

বৃষ্টির তীব্রতায় নিচু এলাকার শত শত একর জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক। কৃষকরা সাইফুল ইসলাম জানান, “ধানের গাছ একেবারে কাদা পানিতে ডুবে গেছে, পেঁয়াজের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার কীভাবে ঘর সংসার চালাবো, বুঝতে পারছি না।”

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে শুধু কৃষিজমিই নয়, অসংখ্য মাটির ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে বসতবাড়িতেও।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে রহনপুর পৌর এলাকা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো। শনিবার সকাল পর্যন্ত পৌর এলাকার অনেক রাস্তাঘাটে হাঁটু সমান পানি জমে ছিল।

রহনপুর পৌর এলাকার হুজরাপুর মডেল একাডেমী বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। স্কুলের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষগুলো কাদা পানিতে ভরে গেছে। শিক্ষকরা জানান, ক্লাস কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস জানা গেছে, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—এই বৃষ্টিতে গোমস্তাপুরে শত শত বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ

কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে তা সরজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া জন্য উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে।”

গোমস্তাপুরের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—আকাশে রোদ উঠুক, শুকিয়ে যাক জমি, আবার ফিরে আসুক হাসির ঋতু।