পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার গাড়ী বহরে সিলেটের জাফলং এর পাথর উত্তোলন ও জাফলং এর পরিবেশ প্রতিবেশ সুরক্ষার জন্য এলাকা পরিদর্শনের সময় অবৈধ্যভাবে পাথর উত্তোলনকারী ও পরিবেশ ধংসকারীরা উপদেষ্টাদের গাড়ীবহরে হামলা ও অবরোধ এর প্রতিবাদে ১৯টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে নিন্মোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন:

বিবৃতি বলা হয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সিলেটের জাফলং এলাকা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী ও পরিবেশ ধ্বংসকারীদের দ্বারা হামলা ও অবরোধের শিকার হন এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

জাফলং একটি প্রাকৃতিক নান্দনিকতা ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এই অঞ্চল রক্ষায় আর কোনো পাথর উত্তোলনের ইজারা দেওয়া হবে না বলে উপদেষ্টারা ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো স্বাগত জানায়।

সিলেটের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত জাফলং-এ পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণমূলক পরিদর্শন একটি সময়োপযোগী এবং সাহসী পদক্ষেপ। অথচ দায়িত্বপালনের সময় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হামলা ও স্লোগানের মাধ্যমে অবরোধ সৃষ্টির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনসমূহ: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিক, বাদাবন সংঘ, উন্নয়ন সমন্বয়, ক্যাপস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, সিডিপি, ইকিউএমএস, গ্রীন ভয়েস, আরডিআরসি, মানবিক উন্নয়নকেন্দ্র, সিডাব্লিউএফ, সাওয়াব এবং ডিইউএস, ইএইডি, গ্রীন সেভার্স এবং নদী পক্ষ।

বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনসমূহ মনে করে, একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা শুধুমাত্র আইনবিরোধীই নয়, বরং তা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি।

সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসাথে বাপা জাফলংসহ সিলেট অঞ্চলের সকল পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং স্থানীয় জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি