ধুনট সংবাদদাতা : বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদী তীরবর্তী বানিয়াজান স্পার এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ভেটু তালুকদার, রুবেল আহমেদ, মিলন মিয়া, মুক্তার হোসেন, শহিদ জাহান সুমন বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদী তীরবর্তী বৈশাখী, শহরাবাড়ি, শিমূলবাড়ি, বানিয়াজান, কৈয়াগাড়ি, রাধানগর, বথুয়ার ভিটা এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনের সময় আদালতের মাধ্যমে ইজারা বাতিল করে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। গত ২০২৪ সালে পুনরায় যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ইজারা নিলে পুনরায় হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট থেকে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে ৩ মাস শেষ হওয়ার পর আবার রিট করলে হাইকোর্ট ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে একটি চক্র রাতের আধারে নৌকা নিয়ে গিয়ে অবাধে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। এলাকাবাসী বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে বলে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়ে ডিসি মহোদয়ও জানেন। কিন্তু অজানা কারণে কেউ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। যদি দ্রুত অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়। তাহলে নদী পাড়ের বাসিন্দারা বসতভিটা হারাবেন। এলাকাবাসী দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টাফার হিমেল রিছিল জানান, বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধনের খবর পেয়ে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।