নাজমুল হুদা রুপগঞ্জ থেকে : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। উপজেলার বিভিন্ন ফার্মগুলোতে অনলাইনে ও সরাসরি খামারে গিয়েও কোরবানির পশু সংগ্রহ করছেন অনেকে। হাটে ক্রেতা কিছুটা কম তবে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু। এদিকে খামার গুলোতে, অনলাইনে ও প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে গিয়ে পছন্দমতো কুরবানীর পশু কিনছেন অনেকে। ক্রেতাদের

পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু। কোরবানীর পশুর বেচাকেনা ক্রমেই জমে ওঠতে শুরু করেছ । ভাল দাম পেয়ে খুশি বিক্রেতা ও খামারিরা। অন্যদিকে স্বাচ্ছন্দে কোরবানীর পশু কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি। তবে কেউ কেউ আবার বলছেন দামটা একটু বেশি। হাটগুলোতে দেশি গরু উঠায় ক্রেতাদের কাছে কদরও বেশি।

উপজেলায় এ বছর ১৩ টি হাট ইজারা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ৮ হাজারের কিছু বেশি পশু কোরবানির চাহিদা থাকলেও উপজেলার ২২৪টি খামারে ১৫ হাজার ৮২৪ টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

রূপগঞ্জের হাটগুলোতে ভারতীয় গরু না আসায় ভাল দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় বিক্রেতা ও খামারিরা। দাম একটু বেশি হলেও পছন্দ মতো গরু কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নোয়াপাড়া, নীলা মার্কেট, শিমুলিয়া ও মুড়াপাড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় মাঝারিসহ বিভিন্ন আকারের অসংখ্য গরু উঠেছে।। সেই সাথে হাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগল খাসিও উঠেছে। কোরবানী দিতে ইচ্ছুক ক্রেতা সাধারণ হাটের এ প্রান্থ থেকে ওপ্রান্থ ছুটে বেড়াচ্ছেন। সাধ্যের মধ্যে তাদের পছন্দের গরু, ছাগল খাসি কেনার জন্যে। অনেকেই কোরবানীর গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন শেষ মুর্হুতের জন্যে।

উপজেলার ৩০০ ফুট সড়কের বালুর মাঠের গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের অসংখ্য দেশীয় গরু হাটে উঠেছে। ৫০ হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ/ছয় লাখ টাকার গরুও হাটে এসছে। এছাড়া হাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগল ও মহিষ নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা।

গোলাকান্দাইল হাটে কথা হয় গরু কিনতে আসা লোকমান মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এখান থেকে গরু কিনে সুবিধা পাওয়া গেছে। কোনো ঝক্কিঝামেলা নেই। নেই ফঁড়িয়া। দেশি গরু বেশি লাভে কিনতে পারছি। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গরু বিক্রেতা ও খামারিরা জানান, এবারের হাটে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। এ ধরনের গরু এনে তারা দাম ভালই পেয়েছেন। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে বড় গরুর তেমন একটা চাহিদা নেই। ইছাখালী হাটের ইজারাদার সেলিম মিয়া জানান, এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি কম। সে কারণে দেশিয় গরুর ব্যাপারিরা ভাল দাম পাচ্ছেন।

শিমুলিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, গরু বোঝাই হাট। কিন্তু ক্রেতা অল্প সংখ্যক। তবে বিক্রেতারা বললেন, দুপুরের পর এ হাট জমে উঠে। বেচাকেনা ভালই। গাজীপুর থেকে গরু নিয়ে আসা রহিম খা নামে এক গরুর ব্যাপারি জানান, এবার ভারতীয় গরুর চাপ তেমন একটা নেই। দেশী গরুর চাহিদা রয়েছে হাটে। যারা দেশি গরু কেনে তারা এ হাটে আসে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সজল কুমার দাশ জানান, এ বছর রূপগঞ্জে মোট খামারের সংখ্যা ২২৪ টি। যার মধ্যে গরু আছে ১৫ হাজার ৮৫৪ টি। কোরবানীর পশুর চাহিদা রয়েছে আট হাজারের কিছু উপরে। ব্যক্তি পর্যায়ে এসকল খামারে কেমিক্যালমুক্ত গরু, ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে। যার সংখ্যা আরো অনেক বেশি। তিনি আরো জানান, খামারিরা যাতে কেমিক্যাল যুক্ত খাবার ব্যবহার না করে তার জন্যে ১ জন পশু ডাক্তারকে প্রধান করে ৩ সদেস্য বিশিষ্ট মোট ৩ টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তারা হাটগুলোতে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মনিটরিং করবে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই গরু-ছাগল কেনার পূর্ব মুহুর্তে সুস্থতা পরীক্ষা করে নিতে পারবে।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী বলেন, হাটগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে বিভিন্ন ব্যাংকের সৌজন্যে পশুর হাটে মেশিন বসানো হয়েছে।