মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মনাই নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী রামদীঘা গ্রামের কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনের নিষেধ থাকার পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি সেখানে। এতে নদী ভাঙনের ভয়াবহতা দিন দিন প্রকট আকার ধারন করছে।

গত ২৩ জুলাই দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মনাই নদীতে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় শাহিন মিয়া (২৮) নামের এক যুবককে নৌকা ও ড্রেজার মেশিনসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। আটক শাহিন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে মধ্যনগর থানা পুলিশ।

গাজীপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে

জনজীবনে আতঙ্ক ২০ দিনে আহত ২৬

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের ৩০ নং ওয়ার্ডের নীলেরপাড়া ও কানাইয়া এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে জনজীবন আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। গত ১৫-২০ দিনের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২৬ জন বাসিন্দা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি, কেউ কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং অনেকেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলাতেই দলবেঁধে কুকুর চলাফেরা করছে। পথচারী, শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে দৌঁড়ে এসে কামড়ে দিচ্ছে। মসজিদগামী মুসল্লি, হাটবাজারে যাতায়াতকারী নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধরাও রেহাই পাচ্ছেন না। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমাস বলেন, “আমার স্ত্রীকে হঠাৎ পেছন থেকে কুকুর কামড়ে দেয়। বেশ কয়েকটি সেলাই নিতে হয়েছে। আমরা ভয়ে রাতে বের হই না।”

নীলেরপাড়া এলাকার রঞ্জিতের দুই পায়ের মাংস ছিঁড়ে ফেলেছে কুকুর। নীলেরপাড়া ও কানাইয়া এলাকার আহতদের মধ্যে রয়েছেন মন্টুর ছেলে সজল, শাহাদাত হোসেন, গুলজার হোসেন ভূঁইয়া ও কামালের স্ত্রীসহ অন্তত ২৬ জন। এছাড়া ২৯ নং ওয়ার্ড সহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে।

স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার মোঃ রহমত আলী জানান, “ বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তবে মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, “গত এক মাসে আমাদের হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা ৪,২২০। এর মধ্যে সরকারিভাবে ২,০০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, বাকিরা বাইরে থেকে সংগ্রহ করেছেন। হাসপাতালের আঙিনায় প্রতিদিন ৩৫টির বেশি কুকুর ঘোরাফেরা করছে, রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

তিনি আরও জানান, “সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা না থাকায় এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হাসপাতাল চত্বরে থাকা কুকুরগুলোও অপসারণ করা যাচ্ছে না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত ‘নিউটারিং’ (বন্ধ্যাত্বকরণ), টিকাদান এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

তেরখাদায় শিক্ষা প্রশাসনে অচলাবস্থা শিক্ষক মহলে চরম অসন্তোষ

খুলনা ব্যুরো : খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগে জর্জরিত অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমানের কর্মকান্ড নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে শিক্ষক মহলে। বর্তমানে তেরখাদার শিক্ষক সমাজ প্রশাসনিক স্থবিরতা নিরসনে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের ৬ মার্চ বটিয়াঘাটা উপজেলার কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানকে তেরখাদায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, তাকে সপ্তাহে কমপক্ষে দু’দিন অফিসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও দায়িত্বহীনতায় তেরখাদার শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, যেদিন অফিসে আসেন, সেদিনও দেখা যায়, তিনি নানা অজুহাতে ফাইল ঝুলিয়ে রাখেন, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

একাধিক মাদরাসা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, তাদের স্কেল অনুমোদন, এমপিও ফাইল বা ইএফটি কার্যক্রম মাসের পর মাস আটকে থাকে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় ‘আর্থিক অনুরোধ’ না মানলে ফাইল অনুমোদনও দেওয়া হয় না।

নাচুনিয়া জুনারী দাখিল মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, “আমার আবেদন একাধিকবার জমা দেওয়ার পরও অগ্রগতি হয়নি। টাকা না দিলে নাকি ফাইল চলবে না-এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়।” একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন কোলাপাটগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, যার এমপিও ফাইল বহুদিন ঝুলে ছিল।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোজাফফর হোসেন বলেন, “তিন মাস ধরে আমার ফাইল নিয়ে তিনি শুধু ঘুরিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে স্বাক্ষর করানো সম্ভব হয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তাকে অফিসে সঠিক নিয়মে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি হয়রানির শিকার হন, প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” শিক্ষকদের অভিমত, তেরখাদায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

শহীদপুর খান এ সবুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের কাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।” আদমপুর বলর্ধনা শালিকদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “স্থায়ী নিয়োগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “সব বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অফিসে এসে দেখা করুন খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শায়েদুর রহমান বলেন, “তেরখাদায় স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় কিছু সমস্যা হয়েছে। আমরা দ্রুতই স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা নিচ্ছি।”