যশোর শহরের বড়বাজারের হাটচান্নি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীরা প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা পারভেজ শেখ জানান, হাটচান্নি মার্কেটে তার একটি সিটি গোল্ডের (সোনার বিকল্প গহনা) দোকান রয়েছে। সকালে পাশের দোকানদার মোহাম্মদ নাঈম বাজারে এসে তার দোকান থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে আশপাশের ব্যবসায়ীদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই তার দোকানসহ তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পারভেজ শেখের দাবি, তার দোকানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার সিটি গোল্ডের মালামাল ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

একই মার্কেটের আরেক সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী সুলতানপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, তার দোকানেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। অগ্নিকাণ্ডে দোকানটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ায় তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে, শহরের আশ্রম রোডের বাসিন্দা ও ছিপ-বড়শির দোকানদার রাশেদুল ইসলাম বলেন, মাত্র এক মাস আগে নতুন মালামাল তুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আগুনে তার প্রায় এক লাখ টাকার পণ্য পুড়ে গেছে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাঈমের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করায় আগুন আরও বিস্তৃত হতে পারেনি। অন্যথায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারত।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে।