শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে আহবমান গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ‘ঘানি শিল্প’। আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে গ্রামে-গঞ্জে এখন আর চোখে পড়ে না গরু চালিত কাঠের ঘানিতে ভাঙ্গা সরিষার তেল।

সরেজমিনে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গ্রামাঞ্চল ঘুরে ও প্রবীণদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এক সময় ঘানিতে সরিষা দিয়ে গর”র সাহায্যে ঘানি ঘুরিয়ে তেল বের করা হতো। গৃহস্থরা ঘানি ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে আলু, বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন ভর্তা ও তরি-তরকারি সব ধরণের রান্নার কাজে ব্যবহার করতো। এক কথায় সে সময়ে ঘানি ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেল ছাড়া রান্নাবান্নাতে যেন গৃহিনীরা আর অন্যকিছু চিন্তাই করতেন না। অন্যদিকে ঘানিতে ভাঙ্গানো সরিষার খৈল মাছের খাদ্য, গো খাদ্য, পানের বরজ ও ক্ষেতখোলাতে জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা হতো।

তারা বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে স্বল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদনের কারণে ঐতিহ্যবাহী ঘানি শিল্প আর দেখতেই পাওয়া যায় না। ফলে এ পেশায় জড়িত অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছে। এখনও যারা আছে তারা তাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্য এ পেশাকে কোন রকম আকঁড়ে ধরে রেখেছে। এক সময় বারহাট্টা উপজেলা জুড়ে শতাধিক ঘানি ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ইউনিয়নে অতিকষ্টে পাঁচ থেকে সাতজন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে।

শ্যামনগর উপজেলা সদরের নুরনগর গ্রামের ৮০ বছর বয়সী একসময়ে ঘানি থেকে সরিষার তেল তৈরির কারিগর মনির”ল ইসলাম জানান, ঘানি ব্যবহার করে তেল বের করতে ঘানির সঙ্গে একটি গর” চোখ বেঁধে দেওয়া হতো। পরে গর”টি চরকীর মতো চারদিকে নিজ মনে ঘুরতে থাকতো। তখন ঘানির নল দিয়ে টিপ টিপ করে ফোঁটা ফোঁটা তেল বের হতো। এ যেন সত্যিই গ্রাম বাংলার ঐহিত্যের অহংকার। কিন্তু কালের বিবর্তণে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘানি শিল্প আজ বিলুপ্ত।