কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : যমুনার ভাঙন, বাড়িঘর নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পুকুর খনন, শ্রেণী পরিবর্তন করে, মাটি বিক্রয়, নদীর উত্তোলনকৃ ত বালি স্তূপাকারে রাখার কারণে কাজিপুরে আবাদি জমি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। কাজিপুর কৃষি, সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেয়া তর্থে উপজেলায় বিগত ১০ বছর আগে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৪২০ হেক্টর। উপরোল্লিখিত কারণে জমির পরিমাণ কমতে কমতে ২৪ হাজার ৪৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যে গত ১০ বছরে ৩৭৬ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। এর বাইরে স্থায়ী পতিত জমির পরিমাণ ২০৩ হেক্টর ও আবাদযোগ্য পতিত জমি রয়েছে ৯৫ হেক্টর। কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যে কাজিপুর এবং এতদিন খাদ্যে উদ্বৃত্ত অবস্থানে থাকলেও ক্রমাগত আবাদি জমি কমায় একসময় খাদ্যে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নদীর ভাঙন, অবকাঠামোগত ভূমির ব্যবহার ছাড়াও সরকারি বিধিনিষেধ না থাকায় অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণের কারণে বসতবাড়ির জমির পাশাপাশি বাড়িতে রোপিত গাছগাছালির ছায়াজনিত কারনে দিগুনপরিমান - জমি অনাবাদি হচ্ছে। এছাড়া জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে পুকুর খনন ও ভাটায় মাটি দেয়ার কারনে অনেক জমিরভালো মাটি বিক্রয়ের কারনে জমি অনাবাদির পরিমান বেড়েই চলেছে। অভিযোগ আছে, মাটি ব্যবসায়ীরা কোন জমির মালিককে ভুলিয়ে ভালিয়ে কিছু জমি নিয়ে মাটি কাটার ফলে পার্শ্ববর্তি জমির মালিকগণ অনিচ্ছা সত্তেও জমির মাটি দিতে বাধ্য হচ্ছে, এতে করে অনেক উর্বর জমির মাটি ভাটায় দেয়ায় ভালো জমি ক্রমাগত অনাবাদি হচ্ছে। এছাড়া কাজিপুরের বৈধ বালি মহলের বাইরে প্রায় ১০টি অবৈধ বালি মহল তৈরি করে বালি উত্তোলন করে স্তূপাকারে রাখায় আবাদি জমি অনাবাদি করে রেখেছে। কাজিপুরে বৈধ বালি মহল ছাড়াও বিলে এলাকায় এবং চরে মাটি ব্যবসায়ীরা সমান তালে মাটি বিক্রয় করে চলেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান বিষয়টি উদ্বেগজনক, সচেতন মহল কাজিপুরে আবাদি জমি রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জৈব ও সবুজ সারের অভাবে-

কাজিপুরে জৈব ও সবুজ সারের অভাবে আবাদী জমির উর্বরা শক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আবাদি জমিতে লাগাতার রাসায়নিক সারের ব্যবহারে জমির উর্বরা শক্তি দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। জানা গেছে, এলাকার অধিকাংশ চাষী স্বল্প শিক্ষিত বলে রাসায়নিক সারের ব্যহারের ব্যাপারে সার্বিক কোনো ধারণা তাদের নেই। তাই তারা রাসায়নিক সার প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ব্যবহার করে থাকে। অনভিজ্ঞ কৃষকরা জৈব সার ব্যবহারে মোটেও আগ্রহী নয়। ফলে রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে হলে গন্ধক, ক্যালসি য়াম, ফসফরাস, পটাশ, দস্তা থাকা খুব প্রয়োজন। এগুলো না থাকলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধির জন্য রাসায়নিক সারের পাশাপাশি সবুজ ও গোবর সার জরুরি হলেও চাষীরা তা ব্যবহার করছে না। জৈব, সবুজ ও প্রাকৃতিক সারের উপকারিতা সম্পর্কে অধিকাংশ চাষীদের জ্ঞান কম। জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী গোবর সারের ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। রাসায়নিক সার ব্যবহার করে জমিতে ফসল উৎপাদন করছে জেলার কৃষকরা। কিন্তু এ সকল সার সুষম মাত্রায় ব্যবহার না করার ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হলে মাটি পরীক্ষা করে সুষম আকারে তা প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সে সুযোগ না থাকায় চাষীরা অনুমানের ভিত্তিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে থাকেন। ফলে জমি ক্রমশ উর্বরতা হারাচ্ছে।