ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক ড. জোবায়েদুর রহমানকে অপসারণের দাবিতে গতকাল বুধবার ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার ও গ্রাহক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহর পরিচালনায় মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গ্রাহক জাহিনুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও গ্রাহক ইমাম হোসেন, আল আমিন রাসেল, মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
বক্তরা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। নিজেদের দলীয় দুর্নীতিবাজদের হাতে ব্যাংক গুলো তুলে দিয়ে লুটপাট করেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মূল হোতা এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারমধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে ৭৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিল। সেই এস.আলম গ্রুপের দোসর ড. জোবায়েদুর রহমানকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক করার পর তিনি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, গ্রাহকদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যাংকের ইসলামী চরিত্র ধ্বংস করার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তাই তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান বক্তরা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর নবী মানিক ৪ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে - ১. আওয়ামী লেসপেনসার, এস আলম ও শেখ হাসিনার দোসর ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর জোবায়দুর রহমানকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। ২. এস আলম কর্তৃক জবর দখলকৃত ব্যাংকের ৮২% শেয়ার ১৭ সালের আগের মালিকদের নিকট অনতিবিলম্বে হস্তান্তর করতে হবে। ৩. সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় লুট হওয়া টাকার সমপরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এখনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করে ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরবর্তীতে বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত এনে এবং এস আলম, সালমান এফ রহমান সহ সকল অলিগার্কদের সম্পদ বিক্রি করে তা সমন্বয় করতে হবে। ৪. লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুট এবং ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংসের সাথে জড়িত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গবর্নর সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের অর্থ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের আসন্ন বোর্ড সভায় পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর জোবায়েদুর রহমানকে অপসারণ করা না হলে, আজ ১০ জুলাই ব্যাংকের হেড অফিস ঘেরাও করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের বিরুদ্ধেও আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন অধ্যাপক নুর নবী মানিক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।