আমিনুল ইসলাম হিরো, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: কুরবানির ঈদ শেষ হলেও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চামড়ার আড়তগুলোতে পড়ে আছে গুদামভর্তি শত শত পিছ কাঁচা চামড়া। এখন পর্যন্তÍ উল্লেখযোগ্য কোনো পাইকারি ক্রেতা না আসায় এসব চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না আড়তদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতে তারা পড়েছেন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী শহিদুল জানান, ঈদের সময় প্রতি পিছ চামড়া সংগ্রহে প্রকার ভেদে গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। এছারা রয়েছে শ্রমিক মজুরি, লবণ, পরিবহন ও আড়তভাড়া। কিন্ত বাজারে স্থবিরতা ও সিন্ডিকেটের কারণে এখন চামড়া বিক্রি করতে পারছি না।
চান্দাইকোনা বাজারের আড়তদার সোহাগ হোসেন ও হাজী তাজমহল বলেন, “প্রতিবছর ঈদের পর দু-একদিনের মধ্যেই পাইকাররা এসে চামড়া কিনে নিয়ে যেতেন। এবার এখনো কেউ আসেনি। আমরা দেশের কিছু চামড়া প্রস্তুত ও পক্রিয়াকারী কোম্পানি গুলোর সংঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন সরকারি রেটে চামড়া কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না বরং চামড়া গুলো সরকারের কাছেই বিক্রি করুন । এদিকে আমাদের কেনা চামড়া গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ রোড এলাকার ব্যবসায়ী শুভাস দাস বলেন, “বাজারে সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা দাম নিয়ন্ত¿ণ করছে। আমরা ন্যায্য মূল্য তো পাচ্ছিই না, বরং চামড়া বিক্রি করতে না পেরে আটকে আছি।” এতে করে আমাদেরমতো চামড়া ব্যাবসায়ীরা চরম ভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনে পড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার প্রতি বছর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয় না। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুমেও তারা মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না, লাভ তো দূরের কথা।
তাদের দাবি, প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা না হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন, যার ফলে কাঁচা চামড়ার স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের ধস নামবে।
এ অবস্থায় তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এই শিল্প টিকে থাকতে পারে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ চামড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিথর সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন বলেন, আমরা সরকারি নির্ধারিত দামে চামড়া কিনলেও সেই চামড়া বিক্রি করতে পারছি না, ফলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
রায়গঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমির হামজা জানান, উপজেলাতে গত বছরের চেয়ে এ বছর কুরবানির পশু দিগুন প্রস্ত ছিল। এ বছর উপজেলায় ১৯ হাজার পশু কুরবানি হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা যেন তাদের ক্রয়কৃত চামড়া যথাযথভাবে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট ছিলাম।