গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর ঝলসানো মরদেহ ঘরে রেখে আগুন লাগিয়ে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বামী মিজানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও নির্মম হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত নারীর নাম মারুফা (৩৫)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গেইট ও ঘরের তালা ভেঙে আগুন নেভান। এরপর ঘরের ভেতরে খাটের উপর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় মারুফার নিথর দেহ।

এই নারকীয় ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ মিজান। স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়া দেখে তারা ছুটে যান। সেখানে গিয়ে গেইট তালাবদ্ধ পেয়ে সন্দেহ হয়। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘরের খাটে পড়ে আছে এক নারীর মৃতদেহ।

নিহতের ছোট ভাই আবু তাহের বলেন, “আমার বোন মারুফা একটি গার্মেন্টসে চাকরি করত। তার স্বামী মিজান ওষুধের দোকান চালাতেন। পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। আমার দুলাভাই সবসময় সন্দেহ করতেন যে আমার বোন পরকীয়ায় জড়িত। সেই সন্দেহ থেকেই প্রতিনিয়ত ঝগড়া করতেন। বেশ কয়েক দিন ধরে আমার বোনকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আমার বোনকে হত্যা করেছেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন।”

নিহতের ছোট বোন কুলসুম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুলাভাই পরিকল্পিতভাবেই আমার আপাকে খুন করেছেন। তাকে ঘরে পুড়িয়ে হত্যার পর বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে যান-এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি নির্মম হত্যাকাণ্ড।”

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর মারুফার পৈতৃক ভিটায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে স্তব্ধ আত্মীয়রা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। প্রতিবেশীদেরও চোখে জল। মারুফা ও মিজানের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক মিজানকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

একটি প্রাণের এই করুণ পরিণতি কেবল একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ঘরে ঘরে এখন প্রশ্ন-একজন স্ত্রী কী শুধুই সন্দেহের বশে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে পারে?