নালতিাবাড়ি (শেরপুর) সংবাদদাতা: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ৯নং মরিচপুরান ইউনিয়নের ভোগাই নদীর তীরে ৭০টি ঘর নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে আশ্রায়ন প্রকল্প। এসব ঘরের ৫০ ভাগই ঝুলছে তালা। তালা ঝুলার কারণ প্রকল্প এলাকায় নেই কোন কর্মসংস্থান, উপকারভোগীরা ঘর ফেলে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছেন রাজধানী ঢাকায়। কেউ কেউ আবার নামমাত্র ঘর দখল করে ফিরে যান আগের বাড়িতে। টাকার বিনিময়ে আশ্রায়নের ঘর অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় চারটি ধাপে সীমান্তবর্তী শেরপুরের পাচটি উপজেলাকে গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। জমি ও গৃহহীনদের বিভিন্ন আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যান্য উপজেলার ন্যায় নালিতাবাড়ি উপজেলার একাধিক আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক’শ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর প্রদান করা হয়। তবে এসব ঘর প্রদান বেশ কয়েক জায়গায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খাস জমি উদ্ধার করে ৭০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে একটি করে বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করা হয় । ঘরের সাথে নিশ্চিত করা হয়েছে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন টয়লেট। তবে এখানে ৪০ টি ঘরেই ঝুলছে তালা, খোঁজ নেই উপকারভোগীদের।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করা চাম্পা বেগম(৫০) বলেন, সরকার আমাদের ঘর দিছে কিন্তু কাজকামের ব্যবস্থা করে দেয় নাই, এর জন্য অনেকে বাইরে কাজকাম করে মাঝেমধ্যে এখানে আসে।

ভোগাইপাড় গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৫৫) বলেন, এখানে বেশিরভাগ ঘরগুলো যাদের নিজস্ব বসতবাড়ি আছে তাদের নামে বরাদ্দ করা। যার ফলে ঘরগুলো সবসময় তালা দেওয়া থাকে। একই গ্রামের ইয়াসমিন আক্তার(৩০) বলেন, এখানে সব ঘরে লোক থাকে না। মাঝে মাঝে অনেক অসহায় পরিবার একটু আশ্রয়ের আশা নিয়ে এখানে আসে যাদের কোন ঘরবাড়ি নাই। আমরা তাদেরকে চেয়ারম্যানের কাছে অনুমতি আনার জন্য পাঠিয়ে দেই যেন তারা তালাবদ্ধ ঘরগুলো আগের ব্যক্তির নাম বাতিল করে নিজেদের নামে বরাদ্দ করে এনে বসবাস করতে পারে।

যারা ঘরে থাকে না তাদের বদলে অন্য অসহায়দের এসব ঘরে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল বলেন, ওই আশ্রায়ন প্রকল্পে কতগুলো ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে এবিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ইউএনও’র সাথে কথা বলে সমাধান করতে চেষ্টা করবো।

নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি সাংবাদিকদের জানান, আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর পেয়েও তালা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এবিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।