পার্বতীপুর সংবাদদাতা : নামেই শুধু খোলাহাটী ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। বাস্তবে নেই উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্পের কোন প্রদর্শন। আছে শুধু অবৈধ লটারী ও জুয়ার ব্যবসা আর যাত্রাপালায় নগ্ননৃত্য ।
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেষা রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় হাসিনা নগরে সেনা পল্লীর মাঠে গত ১৮ আগষ্ট থেকে শুরু হয়েছে তথাকথিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে এসব অবৈধ ব্যবসা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, মেলায় সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে।
পার্বতীপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ সহ আশপাশের ১০ থেকে ১২ টি উপজেলার মানুষজন লোভনীয় পুরুষ্কারের আশায় টিকেট কিনতে প্রতিনিয়ত ভীড় করছেন মেলা প্রাঙ্গণে। উপজেলাগুলোর হাটবাজার, গ্রামা-গঞ্জেও লটারীর টিকেট বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লটারীর টিকিট বিক্রেতাদের ধরপাকড় করলেও কয়েকদিন পার্বতীপুরে প্রকাশ্য টিকিট বিক্রিয় বন্ধ থাকে। ধরপাকড়ের ভয়ে লটারীর টিকিট বিক্রেতারা কৌশল বদলীয়ে ব্যাগে করে শহরের অলিতে গলিতে গ্রামের বাড়ীবাড়ী টিকিট বিক্রিয় করছে। লোভনীয় পুরুষ্কার পাওয়ার আশায় দিন মজুর, ভ্যান চালক, প্রান্তিক কৃষকসহ স্বল্প আয়ের মানুষজন ওইসব টিকিট ক্রয় করে আথিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনেকেই আবার ধার-দেনা করে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার টিকেট ক্রয় করে পথে বসছে। এনজিও থেকে লোন নিয়েও টিকিট ক্রয় করে পুরস্কার না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন অনেকেই। ঋণের টাকা শোধ করতে সংসারে অর্থনৈতিক টানপোড়েনের পাশাপাশি স্বামী স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে। ইতোমধ্যেই এই অবৈধ লটারীর নামে জুয়ার বিরূপ প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ সমাজে। মসজিদের দানবাক্স চুরির হিড়িক পড়েছে। অজ্ঞাত চোরের দল দানকৃত টাকাসহ পুরো দানবাক্স ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন বা এলাকা থেকে এমন অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তাঘাটে ভ্যান, অটো রিক্সাসহ চুরি ছিন্তাইয়ের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘটছে আইন শৃংখলার অবনতি।
উল্লেখ্য যে, এসময় দিনাজপুর সহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মঙ্গা মৌসুম শুরু হয়েছে। দু’বেলা দু-মুঠো খাবার জোগাড় করতে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যখন নাকাল ঠিক সেই মূহুর্তে খোলাহাটি শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারির নামে চলছে অবৈধ জুয়া।
জানা যায়, মেলা কমিটি’র নেতৃত্বে পার্বতীপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা সমুহের শতশত স্পটে লটারী বিক্রির বুথ বসানো হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টিকেট বিক্রি হচ্ছে। গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সংসারের সারা মাসের খরচের টাকা দিয়ে লটারীর টিকেট কিনে পথে বসেছেন। পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রায়ই জরিমানা অব্যাহত রাখলেও সব জায়গায় টিকেট বিক্রি বন্ধ করতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, লটারী’র টিকেট বিক্রি বন্ধের জন্য থানা পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে। এ কারনেই সর্বত্রই টিকেট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘মেলার স্পটটি বদরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় হওয়ায় সেখানে আমার পক্ষে সরাসরি কোন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পার্বতীপুর উপজেলায় সর্বত্র টিকেট বিক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্পটে চোরাগুপ্তা ভাবে বুথ বসিয়ে টিকেট বিক্রয় করা হলেও আমি সাধ্যমত দমন অভিযান অব্যাহত রেখেছি। জনগনের মধ্য থেকে সার্বিক সহযোগীতা পেলে এই অবৈধ টিকেট বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হবে।