মোঃ একরামুল হক চৌধুরী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : একজন মানুষ যখন নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যায়, তখন সে শুধু নিজেকে নয়- সার্বিক বাস্তবতাকেও বদলে দিতে পারে। হাটহাজারীর হালদা নদীর তীরে বেড়ে ওঠা সেই ছেলেটিই আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নদী বিজ্ঞানী। তিনি প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া; যিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন “সেরা নদী বিজ্ঞানী” হিসেবে।
২০২৫ সালের ৮ ও ৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক নদী কংগ্রেস-এ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এটি বাংলাদেশের নদী গবেষণা অঙ্গনে এক যুগান্তকারী অর্জন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই অধ্যাপক দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে হালদা নদী ও এর প্রতিবেশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত। তাঁর গবেষণাকর্মের মধ্য দিয়ে শুধু হালদা নয়, বাংলাদেশের নদীগুলোর সংরক্ষণ ও পুনর্জীবনের পথনকশা তৈরি হয়েছে।
২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর তিনি গড়েন দেশের প্রথম নদীকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান; হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (চকঝঋ) এবং ইন্টারগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ওউঋ) সহযোগিতায়।
এই ল্যাবরেটরিতে শিক্ষার্থীরা নদী ও মৎস্যসম্পদ নিয়ে হাতে-কলমে গবেষণা করে থাকে। ইতোমধ্যে এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি আদর্শ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ড. কিবরিয়া বলেন: “এই সম্মান আমার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্বেরও। এখন আর শুধু হালদা নয়, দেশের প্রতিটি নদীর প্রতিই আমার দায়বদ্ধতা আরও গভীর হলো। নদীকে ভুলে থাকার সুযোগ নেই, তাকে নিয়ে কাজ করাটাই আমার জীবনের দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।”
ড. কিবরিয়া কেবল নদী গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ নন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন পর্যন্ত। তিনি এর আগেও পেয়েছেন:
ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাওয়ার্ড ২০১১, ন্যাশনাল ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১১, দ্য মন্থান অ্যাওয়ার্ড সাউথ এশিয়া ২০১১, প্রাইড অব চিটাগং অ্যাওয়ার্ড ২০১২, নদীর জলে যিনি খুঁজে পেয়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ, তিনিই আজ আন্তর্জাতিক নদী গবেষণায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।