মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং একজন গুরতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়ইবাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কড়ইবাড়ি গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৭)। আহত অবস্থায় রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (৩০) কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। তাদের অত্যাচারে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে নিহতদের বাড়ি ঘেরাও করে। এরপর উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের বেধড়ক মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয় এবং একজন গুরতর আহত হন।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, পরিবারটির বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই এলাকাবাসী তাদের পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
খবর পেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনাটি খুজে বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।