শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: পদ্মা-যমুনার পানি বাড়তে থাকায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, এ কারণে শিবালয় উপজেলার ৭টি ইউপির অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাই বর্ষা মৌসুমে তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। এখন এ কারণেই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নৌকা কারিগররা নৌকা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শিবালয়ের কাঠমিস্ত্রিরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নৌকা তৈরি কাজে নিয়জিত রয়েছে। সারা বছর বিভিন্ন ফার্নিচারের দোকান ও ঘর-বাড়ি তৈরি এবং মেরামতের কাজ করে আসছিল। এ বছর মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতিতে এ কাঠ মিস্ত্রিরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু জুলাই মাসের শুরু থেকে পানি বৃদ্ধিতে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। পানি বৃদ্ধিতে প্রচুর চাহিদা রয়েছে কোষা বা ডিঙ্গি নৌকার।

সরেজমিন শিবালয় উপজেলার চাড়িপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় এবং মাঝারি ধরনের ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যাস্ত কাঠমিস্ত্রী মো. আজিবুর রহমান। ২ দিনে ৩টি নৌকার অর্ডার পেয়েছেন। কথা বলার সময় নেই তার। সুভাষ জানান, ১০- ১২ হাত লম্বা নৌকায় বেশি চলছে। এ নৌকা বানাতে সাধারণত ৬ রোজ লাগে। ৩ জন করে ২দিন কাজ করলেই একটি নৌকার তৈরি করা শেষ হয়।

নকুল সুত্রধর নামে আরেক কাঠ মিস্ত্রি বলেন, শিবালয়ে সাধারণত কড়ই, শিমুল, মেহগনি, ঝিকা, শিশু এবং উরিয়ামসহ বিভিন্ন কাঠের নৌকা তৈরি করে থাকি। তবে এ বছর মৌসুমী নৌকা বিক্রি হচ্ছে বেশি। বাড়িঘরে পানি আসায় নৌকা কিনছেন। তাই শিমুল ও আম ও ঝিকা গাছের নৌকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

আমডালা এলাকার প্রাণ কৃষ্ণ সুত্রধর বলেন, সারাবছর ফার্নিচার ও ঘরের কাজ করেন। তবে বর্ষাকালে নৌকার কাজ করে থাকি। কারণ মানিকগঞ্জে বড় বড় দুইটি নৌকার হাট রয়েছে। একটি হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও আরেকটি ঘিওর নৌকার হাট। এ মৌসুমে সারা সপ্তাহ নৌকা তৈরি করি। আমার তৈরি নৌকা শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির পাশাপাশি তা বেপারিরা এসে কিনে নিয়ে হাটে বিক্রি করে।

উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের টেপড়ী গ্রামের বাসিন্দা এখলাছ উদ্দিন বলেন, ১১ হাত লম্বা এবং আড়াই হাত পাশের নৌকাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কাঠের মানভেদে এমন আকারের প্রতিটি নৌকা ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার নালী বাজারের ব্যবসায়ী জমাত আলী বলেন, আমাদের হাটে সাধারণত পানি বাড়লে নৌকার চাহিদা বাড়ে। শনিবার ঝিটকা হাটে প্রথম দিকে প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ নৌকা বিক্রি হয়েছে। এখন পানি বাড়ায় ৩০০- ৪০০ নৌকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাটে।

আরিচা নৌকার হাটের ইজরাদাররা জানায়, আমাদের হাট প্রতি শুক্রবার বসলেও পানি বাড়ায় এখন প্রতিদিনই নৌকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হাটে ৫০০- ৬০০ নৌকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হাট ছাড়াও প্রতিদিন শতাধিক নৌকা বিক্রি হচ্ছে।