গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়ি বাজার থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ বছর। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের একটি বড় অংশ দেবে যাওয়ায় নির্মাণের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন।
উপজেলার সূতি নদীর তীরঘেঁষে নির্মিত সড়কটির চিনাশুকানিয়া গ্রামের অংশে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীতীর সংরক্ষণে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সড়কের আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাদের দাবি, নদীতীর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই বালু ও মাটি ফেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রয়োজনীয় সময় ধরে মাটি স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় এখন সড়ক ধসে পড়ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। নদীতীর রক্ষায় ব্যবহৃত ব্লক সংযোজনেও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। এ বিষয়ে শুরুতেই প্রতিবাদ জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের হুমকির কারণে পরে আর কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ার পরও যদি কয়েক মাসের মধ্যে তা ধসে পড়ে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, “কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল পরিশোধ করা হলেও দুই বছর পর্যন্ত আমাদের জামানত সংরক্ষিত থাকবে। যেখানে সমস্যা হবে, সেখানে মেরামতের কাজ করা হবে।”
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়ক দেবে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় স্থায়ী মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ জামানত, যার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা, এলজিইডির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজন হলে ওই অর্থ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে নতুন নির্মিত সড়কের এমন বেহাল চিত্রে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের দাবি, সাময়িক জোড়াতালি নয়, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে।