নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলে ষাড়ের লড়াইয়ের নামে কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা। ফজরের নামাজের পূর্ব থেকেই চলে ষাড়ের লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লড়াইয়ের স্থানের আশপাশের বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে জুয়াড়িগণ আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ আয়োজকদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে জুয়া খেলাটা বেশিক্ষণ সময় বিস্তার লাভ করার জন্য ষাড়ের লড়াইকে উপলক্ষ করা হয়। ফলে বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে আনা হয় নামি-দামী ষাড়। আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এরকম অভিনব পদ্ধতিতে চলছে রমরমা জুয়া খেলা। এমনটি ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার ৫নং গাংগাইল ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের খোলা মাঠে। এ যেন দেখার কেউ নেই।

জানাগেছে, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর যাবত গাংগাইল ইউনিয়নে ষাড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলা বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং কতিপয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার ভোরে গোপিনাথপুর গ্রামে ষাড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পরপর বেশ কয়েকটি ষাড়ের মধ্যেকার লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জুয়াড়িরা দুটি লড়াকু ষাড়ের পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান করে মোটা অংকের টাকা বাজি নামক শব্দটি ব্যবহার করে জুয়া খেলায় মত্ত হয়। যে ষাড় লড়াইয়ে জয়ী হয়, তাঁর পক্ষের জুয়াড়িরা জুয়া খেলায় জিতে যায়। গ্রামীণ পরিবেশে ছোট-বড় বিভিন্ন বয়সীদের সামনে এরকম রমারমা জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়–য়া শিক্ষার্থী ও যুবকরা জুয়া নামক খেলায় আগ্রহ প্রকাশ করায় তারাও ষাড়ের লড়াইয়ে ভিড় জমাচ্ছে। ধর্মীয় অনুসারে দুটি প্রাণীর মধ্যে লড়াই স্থাপন করে আনন্দ ভোগ করা গুরুতর অপরাধ। এমন পরিস্থিতি স্থানীয় মুসুল্লিগণ ও ইসলামী দলগুলোর নেতৃবৃন্দও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। উক্ত ষাড়ের লড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়া খেলার বিষয়টি ভাইরাল হলে সুশীল সমাজের নাগরিকরা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসুলমান ও সাধারণ জনগণের হস্তক্ষেপে ষাড়ে লড়াই আমাদের এলাকায় বন্ধ হলেও আবার কিছু অসাধু ব্যক্তিরা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় ষাড়ের লড়াই শুরু করেছে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও বিট পুলিশিং কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পরেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে, কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।

নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি তো ষাড়ের লড়াইয়ের বিষয়টি জানিনা বলে তিনি কথা না বাড়িয়ে ফোন কল কেটে দেন।