খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ১ম ফেজ এর কর্যে হাসানা (ঋণ/ধার) প্রকল্পের চেয়ারম্যান মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস বলেছেন, ‘কর্যে হাসানা’ বর্তমান বিশ্বে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়। কর্যে হাসানায় সুদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। ইসলামি অর্থনীতি মানুষকে সুদ এড়িয়ে চলতে ও সুদী লেনদেন পরিহার করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৫)। তিনি বলেন, আধুনিক এই সমাজে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা গঠন করতে ‘কর্যে হাসানা’র কোন বিকল্প নেই। ‘কর্যে হাসানা’র মাধ্যমে একটি সমাজকে কীভাবে সুদমুক্ত করা যায় ইসলাম তা যুগে যুগে দেখিয়ে দিয়েছে। সকলকে ইসলামের দেখানো সেই পথে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

সোনাডাঙ্গাস্থ ‘কর্যে হাসানা’ (ঋণ/ধার) প্রকল্পের অস্থায়ী কার্যালয়ে কর্যে হাসানা গ্রহণকারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশে নগদ অর্থ বিতরণকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রকল্পের জেনারেল সেক্রেটারি উদ্যোক্তা মো. রজব আলীর পরিচালনায় হাফেজ মাওলানা মো. রাহাতুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুর রহিম, সাব্বির আহমেদ, কাফি হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শারিরিক প্রতিবন্ধী মো. সরোয়ার হোসেনকে ব্যবসার (খাশির মাথা, কলিজা ও পায়া) জন্য এবং মো. নজরুল ইসলামকে ফল বিক্রির জন্য ‘কর্যে হাসানা’ দেয়া হয়। যার অর্থ এক বছর ধরে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তাফসিরবিদদের মতে, বিপদগ্রস্ত ও অসহায় ব্যক্তিকে কর্য (ঋণ) প্রদান করার মাধ্যমেই মূলত আল্লাহকে কর্যে হাসানা প্রদান করা হয়। তাই আল্লাহ তাআলাকে ঋণ দেওয়ার অর্থই হচ্ছে-গরিব-দুঃখী ও অভাবী যারা, তাদের প্রয়োজনানুসারে ঋণ প্রদান ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দুবার ঋণ দিলে, এ ঋণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ)।