কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজিপুরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সার, কীটনাশক ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১০ হতে ১১ হাজার টাকা। উৎপাদন বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ। বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় পাট চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। সরে জমিনে দেখা গেছে পাট কাটা, পাট জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকাতে দারুন ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। কাজিপুরের বিভিন্ন হাটে পাট বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পাটের ফলন ও ভালো দাম পেয়ে চাষিদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন পুরনের হাসি। উপজেলার গান্ধাইল গ্রামের পাট চাষী আনোয়ার হোসেন ও মিরারপাড়া গ্রামের মুকুল হোসেন জানান, পাটের পাশাপাশি পাট খড়ির চাহিদা থাকায় পাট খড়ি বিক্রি করে পাট চাষের খরচ উঠে যায়। কাজিপুর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর কাজিপুর উপজেলায় মোট টার্গেট ছিল ৪২ শত ৫০ হেক্টরে জমি, উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টরে আড়াই মেট্রিক টন পাট। মোট ৪২৫০ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন এবং এর বর্তমান বাজার মূল্য ৩৬ কোটি ১২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। কৃষি ভুতুর্কী ও সরকারী প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে দেয়ায় কৃষকেরা বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছে এবং কৃষকেদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায় দেখা শুনা করায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাংলাদেশর এক কালের প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাট কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছিল। বর্তমানে পাটের বহুমুখী ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে জুটমিল প্রতিষ্ঠিত ও চালু হওয়ায় পাটের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনালী আঁশ বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুনভাবে পাট চাষে কৃ ষকদের আগ্রহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাটের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে আগামী দিনের সোনালী স্বপ্ন নিয়ে এবার অধিক পরিমাণ জমিতে পাট চাষের আওতায় এনেছে পাট চাষীরা।