আমজাদ হোসেন, পার্বতীপুর : রাতের আধারে চোরাই ট্রাক কেটে স্ক্রাবমাল হিসাবে বিক্রির চেষ্টার সময় ট্রাকের চালকসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে পার্বতীপুর শহরের ঢাকা কোচ-স্টান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতার ট্রাক চালক রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মাহিগঞ্জ মহল্লার আমিরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ(৩৩) এবং চোরাই পণ্য কেনা বেচার স্থানীয় সোর্স ও পার্বতীপুর শহরের নুর নগর মহল্লার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে ফেরদৌস(৩২)। এসময় পুলিশ ঘটনা স্থল ও ক্রেতার গুদাম ঘর থেকে ট্রাকের খন্ডিত চেচিস, বডি ও ইঞ্জিন উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- গত ২৩ জুলাই নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মাছুম রানা এন্টার প্রাইজের ৬ মে.টন ধারণ ক্ষমতার একটি ট্রাক(ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-৭৫০২) চালকসহ উধাও হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রাকের কোন সন্ধান না মেলায় এ ঘটনায় ট্রাক মালিক মাছুম রানা, পিতা আব্দুল জলিল মিয়া, মৌচাক মিজমিজি, নারায়ণগঞ্জ, বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই থানা পুলিশ ট্রাক চালকের মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল রাত ৮টার দিকে শহরের নতুন বাজার থেকে ট্রাক চালক সোহাগকে আটক করে ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে নিয়ে আসে। ওই সময় ফেরদৌস ও স্থানীয় স্ক্রাব মাল ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ ট্রাকের খন্ডিত অংশগুলি তার গুদামঘরে নিয়ে মজুদ করছিল। এসময় গুদামঘর থেকে পুলিশ চোরাই মালামালসহ ফেরদৌসকে আটক করে। তবে স্ক্রাব ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ ও তার সহযোগীরা ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় গোডাইনঘরে হাতের কাছে পেয়েও পুলিশ চোরাই ট্রাক ক্রেতা স্ক্রাবমাল ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অনৈতিক চাপে তাকে আটক না করেই অন্য আসামীদের নিয়ে থানায় চলে যায়।
স্ক্রাব মাল ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ শহরের আমিরগঞ্জ মহল্লার নুর ইসলাম সরদারের ছেলে।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-এ ঘটনায় ৩জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩জনকে আসামী করে ট্রাক মালিক মাছুম রানা বাদী হয়ে গতকাল শনিবার (২৬ জুলাই) পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি মামলা(মামলা নং-২৫,তাং-২৬-৭-২৫) দায়ের করেছেন।