মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের রামধনীমুড়া ও নিমাইকান্দি গ্রামের অন্তত ৫৬টি পরিবার ও রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। প্রাকৃতিক নালা ও জেলা পরিষদের খালে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে এবং খালের অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বসতঘর, চলাচলের রাস্তা ও বিদ্যালয় মাঠ তলিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের পূর্বাংশ দখল করে মাটি ভরাট করে রেখেছেন রামধনীমুড়া গ্রামের মৃত রবিউল্লাহর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০), মৃত জলিল মিয়ার ছেলে মোক্তল হোসেন (৫২) ও মৃত রোছমত আলীর ছেলে বুচ্চু মিয়া (৫৫)। এর সাথে খালে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পানি চলাচল একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে দুই গ্রামের বাড়িঘর ও বিদ্যালয় চত্বর প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে আছে। শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল চরমভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

এদিকে, জমে থাকা স্থির পানি ও নোংরা পরিবেশে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বেড়ে গেছে। এতে ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিও মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইতিমধ্যেই কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, “মুরাদনগর-কোম্পানিগঞ্জ পাকা সড়কের দক্ষিণে জেলা পরিষদের একটি খাল ছিল, যা দিয়ে উপজেলা পরিষদ, রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুই গ্রামের পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু ময়লার স্তূপের কারণে খালটির পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।”

স্থানীয়দের দাবি, “জরুরি ভিত্তিতে খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে পানি চলাচল সচল করতে হবে। রামধনীমুড়া থেকে উপজেলা পরিষদ গেইট পর্যন্ত অন্তত ৫০ ফুটের দুইটি কালভার্ট নির্মাণ করলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব। সেই সাথে খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি, জনভোগান্তি রোধের জন্য অতিদ্রুত ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে, মুক্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”