মো: ইস্রাফিল মিয়া, পীরগাছা (রংপুর) : রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তিস্তা নদীর পানিয়ালের ঘাট থেকে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। কিন্তু তিস্তা নদী আলাদা করে রেখেছে দুই পারের লক্ষাধিক মানুষকে। উলিপুর উপজেলার মানুষকে রংপুর শহরে যেতে পাড়ি দিতে হয় ৫০ কিলোমিটার পথ। অথচ তিস্তা নদীর পানিয়ালের ঘাট থেকে থেতরাই পর্যন্ত একটি সেতু হলে কমে যাবে ২০ কিলোমিটার পথ। যা দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসলেও কোন সুরাহা হয়নি। অবশেষে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে এবার নতুন স্বপ্নের হাতছানি দিচ্ছে একটি সেতুর অপেক্ষা। আবারো আশা জেগেছে দুই পারের মানুষের মনে। সম্প্রতি তিস্তা নদীর উপর ওপর ১৪০০ মিটার দীর্ঘ পঞ্চম সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরিদর্শন করেছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন প্রকল্প পরিচালক শেখ আবু জাকির সিকান্দার।

এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম, ডিজাইন ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী ভাস্কর ক্রান্তি চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী গবেষণা সংস্থা আইডাব্লিউএম-এর প্রতিনিধি আলিমুজ্জামান ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উলিপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হায়দার আলী, উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার, পীরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারা গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প ২-এর আওতায় তিস্তা নদীর ওপর ১৪০০ মিটার দীর্ঘ পঞ্চম সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।

উলিপুর থেতরাই এলাকার বাসিন্দা রইচ উদ্দিন বলেন, আমাদের রংপুরে যেতে ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। অথচ এই সেতু হলে কমবে ২০ কিলোমিটার। সময়ও বাঁচবে, টাকাও বাঁচবে। আরেক কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, কৃষি পণ্য শহরে নেওয়া কষ্টকর। তাই বাধ্য হয়ে এলাকায় কম দামে বিক্রি করতে হয়। সেতু হলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আশায় আছি, দেখি হয় কি না।