দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৭ জনসহ ৮জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদেরমধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৬জনের এবং মেহেরপুরের গাংনীতে ২জনের দাফন সম্পন্ন হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ধর্মদহ গ্রামের ফরাজিপাড়া কবরস্থানে একই পরিবারের ৪ জনকে পাশাপাশি কবরে দাফনের মধ্যদিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮জনের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এদিকে একই পরিবারের ৭ জন সহ একসাথে ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো ধর্মদহ গ্রাম। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত জাহিদুল ইসলামের প্রবাসী ছেলে সোহান ও ভাতিজা সুইট রানা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী পরিবেশ তৈরি হয়। বাবা, মা, ফুফু, খালা, নানী, ও চাচীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোহান। এসময় স্বজনদের জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলতে থাকে ‘আমার আর কেউ রইলো না, বাঁচবো কাদের নিয়ে’। শুধু সোহান একা নন, প্রবাসী সুইট রানাও তার মা, ফুফু, চাচা ও চাচীসহ পরিবারের ৭সদস্য কে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বাবা শহিদুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে পিতা-পুত্র দু’জনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কান্না দেখে স্বজন ও গ্রামবাসীরাও কান্না ধরে রাখতে না পেরে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী, ভাই, বোন ও ভাবীসহ পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে নিহত জাহিদুল ইসলামের ভাই শহিদুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, এমন দুর্ঘটনা যেন আর কারো পরিবারে না ঘটে। একসাথে এতগুলো প্রাণ ঝড়ে পড়লো সড়কে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান সরকারের প্রতি।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ধর্মদহ গ্রামের ফরাজি পাড়া কবরস্থানে জানাযা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তাঁর স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), চাচাতো বোন আনোয়ারা খাতুন (৫৫) এবং চাচাতো ভাবি আনোয়ারা খাতুন আন্নি (৫০)। কুয়েতে অবস্থান করা জাহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান এবং আনোয়ারা খাতুনের ছেলে সুইট রানা দেশে ফেরার পর একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এরআগে একইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত জাহিদুল ইসলামের ছোটবোন রওশনারা আক্তার ইতি (৪৮) এর লাশ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় জাহিদুল ইসলামের শাশুড়ি আঞ্জুমান আরা খাতুন (৭৫) এবং শ্যালিকা সীমা আক্তার (৩৫) এর লাশ। মাইক্রেবাসের চালক শাহাবুদ্দিনের লাশ দাফন করা হয় বুধবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মদহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে।
নিহতদের দাফনের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে তাদের নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ধর্মদহ গ্রামে গিয়েছিলাম, ৪ জনের জানাযায় অংশ নিয়েছি। এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এটা এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। শান্তনা দেবার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ রোগী দেখতে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার তরমুজ পাম্প এলাকায় একই পরিবারের সদস্যদের বহনকরা মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালকসহ ৮জনই নিহত হ’ন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের জাহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, ছোটবোন রওশনারা আক্তার ইতি, চাচতো বোন আনোয়ারা খাতুন, চাচাতো ভাবি আনোয়ারা বেগম আন্নি, শাশুড়ী আঞ্জুমান আরা খাতুন ও শ্যালিকা সীমা আক্তার এবং মাইক্রোবাসের চালক শাহাবুদ্দিন। শাহাবুদ্দিন একই গ্রামের জয়নাল
আবেদিনের ছেলে।