গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পাইপ কারখানায় ডাকাতির চেষ্টাকালে পুলিশের সহায়তায় ৬ আন্তঃজেলা ডাকাতকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
সোমবার রাত ১১টার দিকে মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত 'পিপিএস পাইপ অ্যান্ড প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি'তে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৯ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল একটি ট্রাক নিয়ে কারখানায় আসে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন ট্রাকসহ বাইরে অপেক্ষা করে, আর বাকি ৬ জন কারখানার গেইট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমেই নিরাপত্তা প্রহরী মকবুল হোসেনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে।
এ সময় পাশেই থাকা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম তিনতলা ভবন থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে দ্রুত কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্থানীয়দের খবর দেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতদের ধাওয়া করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে তাদের সহযোগিতায় ৬ ডাকাতকে আটক করে। বাকি সদস্যরা ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. সোহেল মিয়া (৩২), ফুলপুর, ময়মনসিংহ,এমদাদুল হক (৪৫), তারাকান্দা, ময়মনসিংহ,ফারুক (৩২), নন্দীগ্রাম, বগুড়া,আরিফ (৩০), রাণীনগর, নওগাঁ,শিমান্ত (২১), মাধবদি, নরসিংদী, ইব্রাহীম (২৩), মতলবপুর, চাঁদপুর।
স্থানীয়দের গণধোলাইয়ে আহত ৬ ডাকাতকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত সোহেল ও এমদাদুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক জানান, “কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ডাকাতরা যন্ত্রপাতি লুটের উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে। আমরা খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ ডাকাতকে আটক করি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।” ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।